বরিশালে মাদক মামলার জট কমাতে এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে নতুন এক বিচারিক মডেল গড়ে উঠেছে। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই সমন্বিত ব্যবস্থায় মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই একটি মাদক মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এস এম শরিয়ত উল্লাহ প্রকাশ্য আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুই আসামির একজনকে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অন্যজনকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি উভয়কে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এই মামলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর দ্রুত নিষ্পত্তি। সাধারণত দেশে একটি মাদক মামলার বিচার শেষ হতে বছরের পর বছর লেগে যায়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে মাত্র সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়েছে।
মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয় ৩ জুন ২০২৬ তারিখে। ওই দিন বরিশাল মহানগরের কাউনিয়া থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক মামলা দায়ের করা হয়। এরপর দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। আদালত দ্রুত চার্জ গঠন করে ধারাবাহিকভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ করে ১১ জুন ২০২৬ তারিখে রায় ঘোষণা করে।
আদালত সূত্র জানায়, বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এখন মাদক, চুরি ও ছিনতাইসহ ছোটখাটো মামলাগুলো সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়ায় দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বড় ধরনের মাদক মামলাগুলোর ক্ষেত্রে বরিশাল মহানগর পুলিশ, সংশ্লিষ্ট থানা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তোলা হয়েছে।
এই সমন্বিত ব্যবস্থায় মামলাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত তারিখ নির্ধারণ করে নিয়মিত শুনানি ও বিচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছে।
আইনজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অপরাধের পর দ্রুত শাস্তির নজির তৈরি হলে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

