বিচারাধীন ফৌজদারি মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি ‘কেস ডকেট’ (সিডি) সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। প্রায় ১৭ বছর আগে জারি করা একটি পরিপত্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাতিল করে নতুন নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, দেশের সব পর্যায়ের আদালত ও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার কেস ডকেট সংশ্লিষ্ট কোর্ট পুলিশ অফিসারের (সিপিও) নিরাপদ হেফাজতে রাখতে হবে।
আইন ও বিচার বিভাগের জিপি-পিপি শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্র গত ৫ জুলাই জারি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগ জানিয়েছে, নির্দেশনাটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন-১ শাখার ৪ মে ২০২৬ তারিখের স্মারক এবং ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা পূর্ববর্তী পরিপত্রের আলোকে এই সংশোধন আনা হয়েছে। ২০০৯ সালের পরিপত্রে কেস ডকেট সংরক্ষণসংক্রান্ত (গ) ও (ঘ) দফা বাতিল করে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, মহানগর দায়রা জজ আদালত এবং বিভিন্ন বিশেষ আদালত ও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ফৌজদারি মামলার কেস ডকেট সার্বক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কোর্ট পুলিশ অফিসারের হেফাজতে সংরক্ষণ করতে হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, সাক্ষ্যগ্রহণ বা শুনানির নির্ধারিত তারিখের আগে কেস ডকেট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের কাছে হস্তান্তর এবং শুনানি শেষে তা পুনরায় কোর্ট পুলিশের কাছে ফেরত দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া প্রচলিত বিধি অনুসারে সম্পন্ন করতে হবে।
এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোর্ট পুলিশ অফিসার, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এবং সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি কেস ডকেটের প্রতিটি হস্তান্তর ও গ্রহণের লিখিত রেকর্ড সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয় দেশের সব পাবলিক প্রসিকিউটর এবং মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটরদের নতুন নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য নির্দেশক্রমে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে।
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিপত্রটির অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ (অধীনস্থ বিচারকদের অবহিত করার অনুরোধসহ), সব মহানগর দায়রা জজ, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), আইনমন্ত্রীর একান্ত সচিব এবং আইন ও বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটের প্রোগ্রামারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
আইনি বিশ্লেষকদের মতে, কেস ডকেট সংরক্ষণ ও হস্তান্তরের দায়িত্ব ও প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করায় গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমবে। একই সঙ্গে আদালত, কোর্ট পুলিশ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে, যা বিচারিক কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সহায়তা করবে।

