বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব ও নৈতিকতার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আদালতে কোনো মামলা উপস্থাপনের দায়িত্ব আইনজীবীর, আর সেই দায়িত্ব পালন করতে হলে সংশ্লিষ্ট মামলার প্রতি পূর্ণ অঙ্গীকার, সততা ও পেশাগত নিষ্ঠা থাকতে হবে। মামলায় জয়-পরাজয় বিচারকের সিদ্ধান্তের বিষয় হলেও আইনজীবীর দায়িত্ব হলো বিচারপ্রার্থীর অবস্থান যথাযথভাবে আদালতের সামনে তুলে ধরা।
সোমবার (২০ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে রাজধানীর শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, একজন বিচারপ্রার্থী তার মামলা পরিচালনার জন্য একজন আইনজীবীকে পেশাগতভাবে দায়িত্ব দিয়ে থাকেন। ফলে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা আইনজীবীর আইনগত, নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য। তিনি আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, যে মামলা হাতে নেওয়া হবে, তার প্রতি পূর্ণ দায়বদ্ধতা থাকতে হবে এবং আদালতে তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিচারকরা প্রমাণ ও আইন অনুযায়ী রায় দেবেন। কিন্তু মামলার তথ্য, যুক্তি ও আইনগত অবস্থান যথাযথভাবে আদালতে তুলে ধরা আইনজীবীর দায়িত্ব। তাই মামলার ফলাফল নয়, বরং দায়িত্বশীল ও আন্তরিকভাবে মামলা পরিচালনাই একজন আইনজীবীর পেশাগত পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার মো. কায়সার কামাল বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার দেশের গণতন্ত্র, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবসময় আন্তরিক ছিলেন। তিনি একজন দূরদর্শী ও প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি কর্মজীবনের প্রতিটি পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। তিনি আইনজীবী, ছয়বারের সংসদ সদস্য, শিক্ষামন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে দেশের জনজীবনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এস. এম. এমদাদুল হক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট আলহাজ জয়নুল আবেদীন (এমপি) এবং বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা (বাদল)।
স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের কন্যা নিলুফার জমির তার বাবার কর্মজীবন, ব্যক্তিজীবন এবং মূল্যবোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় তার দুই ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির (এমপি) এবং ব্যারিস্টার নওফেল জমিরও উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং সুপ্রিম কোর্টের বিপুলসংখ্যক আইনজীবী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের কর্মময় জীবন, সততা, পেশাগত দক্ষতা এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

