গোপালগঞ্জে আদালত চলাকালে বিচারকের ছোড়া পেপারওয়েটের আঘাতে মাথা ফেটে আহত হয়েছেন সাবিহা সুলতানা নামে এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী। বিচারকের এমন অপ্রত্যাশিত কাণ্ডে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আজ বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগের তীর আদালতের বিচারক মো. সুজন মিয়ার দিকে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোপালগঞ্জ আদালত-২-এর বিচারক মো. সুজন মিয়ার আদালত চলাকালে কক্ষের পেছনের দিকে বিচারপ্রত্যাশীরা আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় কথা বলতে দেখে বিচারক মো. সুজন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে একটি একটি কাঁচের পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন। এতে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় লেগে মাথা ফেটে গেলে মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে তাকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর জেলা আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তারা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
আহত শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানা বলেন, একজন বিচারকের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জুলকদর রহমান বলেন, বিচারকের এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
একই দাবি জানিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অ্যাডভোকেট এম এ আলম সেলিম বলেন, একজন বিচারকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার তদন্ত করে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে বিচারক মো. সুজন মিয়ার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আদালত প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

