দেশের ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী নারী-পুরুষ নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ চালুর দাবিতে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া। নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়সহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ কর্তৃপক্ষকে।
দাবির আইনি ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে ১৯৭০ সালের National Service Ordinance-কে, যেখানে জাতীয় সেবায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের কাঠামো আগে থেকেই আছে, তবে তা মূলত পুরুষকেন্দ্রিক হওয়ায় নারী-পুরুষ উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে হালনাগাদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ২১(১), ৩১-৩২ ও ১৫ অনুচ্ছেদে নাগরিকের দায়িত্ব ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা-দায়বদ্ধতার কথা টেনে প্রস্তাবটিকে সাংবিধানিকভাবে যুক্তিসঙ্গত দেখানো হয়েছে, তবে বাস্তবায়ন করতে হবে সমতা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে, এমন শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে নীতিমালা, রোডম্যাপ ও আইনগত কাঠামোসহ পূর্ণাঙ্গ জাতীয় কৌশল তৈরি করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করার ঘোষণা দিয়েছেন নোটিশদাতা — এমন নোটিশ সাধারণত জনস্বার্থ মামলার আগের ধাপ হিসেবেই কাজ করে। এছাড়া নোটিশে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নাগরিক পর্যায়ে যে সম্ভাব্য সুফল অর্জিত হতে পারে তা বর্ণনা করা হয়েছে।
যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, দেশের ১৬-২৫ বছর বয়সীরাই সবচেয়ে বড় জনমিতিক সম্পদ, অথচ তাদের বড় অংশ কোনো সমন্বিত প্রশিক্ষণের আওতায় নেই। দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিশ্বের ৬৫টির বেশি দেশে প্রচলিত বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার উদাহরণও রেফারেন্স হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

