বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষদের জন্য নির্ধারিত শাস্তির বিধান কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক দুজন ব্যক্তির নিজেদের সম্মতিতে গড়া সম্পর্ককে কেবল বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অজুহাতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার নিয়মটিও কেন বহাল থাকবে, সে প্রশ্নও তুলেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিচারপতি হাবিবুল গনির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। রুলে আরও জানতে চাওয়া হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া এই বিধানটি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, কার্যকারিতাহীন ও বাতিলযোগ্য বলে ঘোষণা করা হবে না।
এর আগে একই ইস্যুতে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট প্রথম দফায় রুল জারি করেছিলেন। মঙ্গলবারের এই সম্পূরক রুলের মাধ্যমে আদালত সংশোধিত আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা সংক্রান্ত প্রশ্নটিকে আরও নির্দিষ্ট করে তুলেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এর ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রিট আবেদনকারীর পক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। আবেদনে যুক্তি তুলে ধরে বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্ক দুই ব্যক্তির নিজেদের সম্মতিতে গড়া ব্যক্তিগত সম্পর্ককে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অজুহাতে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার এই বিধানটি একদিকে যেমন অস্পষ্ট, তেমনি এটি বৈষম্যমূলকও বটে। এমনকি এটি সংবিধানে নিশ্চিত করা নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক বলে দাবি করা হয়েছে আবেদনে। এসব যুক্তির ভিত্তিতেই বিধানটির সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদনটি দাখিল করা হয়।

