রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা নিয়োগকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ২৬৫ জন আইন কর্মকর্তার মধ্যে ১১৩ জনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলে তাদের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একটি অংশ। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এনে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগও দাবি করেছেন তারা।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। সমাবেশে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ মামলা পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়, আর্থিক লেনদেন এবং বিশেষ প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তাদের দাবি, নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৬৫ জন আইন কর্মকর্তার মধ্যে ৩০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ৮৩ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলকে তারা প্রাথমিকভাবে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এ কারণেই মোট ১১৩ জনের নিয়োগ বাতিল করে তাদের অপসারণের দাবি তোলা হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, আদালতে কাজের অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়ার কথা থাকলেও এবারের নিয়োগে সেই নীতির প্রতিফলন দেখা যায়নি। তাদের ভাষ্য, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এবং অতীতে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন—এমন অনেক আইনজীবীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষে আদালতে অবস্থান নেওয়া আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক থাকা উচিত নয়। তাই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাগতভাবে গ্রহণযোগ্য আইনজীবীদের নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করার দাবি জানান তারা।
এই নিয়োগের পর থেকেই বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একটি অংশ ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। ২ ও ৩ আগস্টের কর্মসূচির পর মঙ্গলবারের বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল সেই ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ। দাবি আদায়ে আগামী ৬ আগস্ট লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিরও ঘোষণা দেওয়া হয়।
সমাবেশে আইনজীবী শরীফ ইউ আহমেদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজি, এ এম শওকাতুল হক, আইয়ূব আলী আশরাফী, রেজাউল করিম, শাহরিয়ার কাকন, রাশিদা আলিম ঐশী, শাহিনা সুলতানা, আনোয়ারা শিখা, সারোয়ার আকম খান, অহিদুল ইসলাম অপু, আমিরুল ইসলাম শানু, সাবিনা ইয়াসমিন লিপি, আবদুল্লাহ আল বাকী, মাসুদ রানা, এবিএম ইব্রাহীম খলিল, কোহিনুর পাপড়ি, হাবিবুর রহমান, আনিসুর রহমান খান ও আবদুস সামাদসহ অন্যরা।
গত ৩০ জুলাই আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে আগের সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ বাতিল করে। একই সঙ্গে ৮৬ জনকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ জনকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হয়।

