পুরুষদের জন্য পৃথকভাবে ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে করা একটি রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে এ বিষয়ে আদালতের মাধ্যমে নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশনা পাওয়ার উদ্যোগ আপাতত থেমে গেল।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি খারিজের আদেশ দেন। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান।
এর আগে একই আইনজীবী হাইকোর্টে রিট দায়ের করে দাবি করেন, বিদ্যমান ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ এবং ‘যৌতুক আইন’-এর অপব্যবহারের অভিযোগে অনেক পুরুষ অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই বাস্তবতায় তাঁদের সুরক্ষায় ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি পৃথক আইন প্রণয়ন প্রয়োজন।
রিটে বলা হয়, এমন একটি আইন কার্যকর হলে আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও ন্যায়বিচার আরও সুসংহত হবে এবং বিদ্যমান আইনের অপব্যবহারের সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না—সে মর্মে রুল জারিরও আবেদন জানানো হয়।
এ ছাড়া রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের মাধ্যমে সরকারকে দ্রুত এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও করা হয়।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছিল।
তবে শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিটটি খারিজ করে দেন। আদালত এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা বা রুল জারি করেননি।
আইন প্রণয়নের প্রশ্নে আদালতের ভূমিকা
বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী আইন প্রণয়নের দায়িত্ব সংসদের। অন্যদিকে আদালতের প্রধান দায়িত্ব হলো সংবিধান ও প্রচলিত আইনের ব্যাখ্যা দেওয়া এবং আইনের সাংবিধানিক বৈধতা বিচার করা। এ কারণে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হলে, আদালত প্রতিটি ক্ষেত্রে সেই আবেদন গ্রহণ করবেন—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। এ ধরনের রিটের ক্ষেত্রে আদালত আবেদনটির আইনগত গ্রহণযোগ্যতা, সাংবিধানিক সীমারেখা এবং বিচারিক এখতিয়ারের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেন।
এদিনের আদেশের মধ্য দিয়ে পুরুষদের জন্য পৃথক নির্যাতনবিরোধী আইন প্রণয়নের দাবিতে করা আবেদনটি আদালতে আর অগ্রসর হলো না।

