সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানার ব্যবহার করে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের নবনিযুক্ত আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক যে আন্দোলন, বক্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ সামনে এসেছে, তা নিছক একটি নিয়োগবিরোধী কর্মসূচি হিসেবে দেখলে বিষয়টির গভীরতা ধরা পড়বে না।
কারণ আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগ কেবল কয়েকজন ব্যক্তির পদ পাওয়া বা না-পাওয়ার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাষ্ট্রের পক্ষে আদালতে মামলা পরিচালনা, বিচার প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা, পেশাগত দক্ষতা, সততা, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের আইনগত স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতা।
তাই প্রথম প্রশ্নটি হওয়া উচিত—
এই আন্দোলন কি সত্যিই নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও নীতিগত প্রশ্ন নিয়ে, নাকি নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের কোনো সুবিধাভোগী কাঠামোয় পরিবর্তন আসায় একটি বিশেষ মহলের স্বার্থে আঘাত লেগেছে?
এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
কারণ অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের নতুন নেতৃত্ব যদি যোগ্যতা, সততা ও পেশাগত সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পূর্ববর্তী কাঠামোর কিছু ব্যক্তি বাদ পড়তে পারেন। সেটি নিজে কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়।
বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—
কোন মানদণ্ডে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং কোন মানদণ্ডে পুরোনোদের বাদ দেওয়া হয়েছে?
এই মানদণ্ড যদি স্বচ্ছ, যুক্তিসংগত ও প্রমাণভিত্তিক হয়, তাহলে নিয়োগের বিরোধিতা করার আগে সেই মানদণ্ড নিয়েই আলোচনা হওয়া উচিত।
‘ফ্যাসিস্ট’, ‘গুপ্ত’, ‘সুপ্ত’—অভিযোগের ভিত্তি কোথায়?
সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে নবনিযুক্ত আইন কর্মকর্তাদের কাউকে ‘ফ্যাসিস্ট’, কাউকে ‘গুপ্ত’ কিংবা ‘সুপ্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ উঠেছে। এখানে একটি মৌলিক নীতিগত প্রশ্ন আছে।
কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিকভাবে এমন গুরুতর অভিধায় চিহ্নিত করার আগে তার প্রমাণ কোথায়?
কারও বিরুদ্ধে অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা নথিভুক্ত করা যেতে পারে। কারও বিরুদ্ধে কোনো সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে তার প্রমাণ উপস্থাপন করা যেতে পারে। কেউ যদি কোনো সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে সেই অভিযোগের নথিও প্রকাশ করা যেতে পারে।
কিন্তু রাজনৈতিক ট্যাগ কোনো আইনি প্রমাণ নয়।
অভিযোগ এবং প্রমাণ এক জিনিস নয়।
আইনজীবীদের কাছ থেকে তাই প্রত্যাশা আরও বেশি। কারণ একজন আইনজীবী জানেন—আদালতে কোনো অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে তার প্রমাণ, উৎস ও আইনগত ভিত্তির ওপর।
সুতরাং আইন অঙ্গনে রাজনৈতিক অভিধানের পরিবর্তে evidence-based accountability বা প্রমাণভিত্তিক জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করাই বেশি জরুরি।
নিয়োগের ক্ষেত্রে কী হওয়া উচিত মানদণ্ড?
আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে ব্যক্তির পরিবর্তে একটি মৌলিক প্রশ্ন আনা দরকার—
একজন আইন কর্মকর্তার যোগ্যতা নির্ধারণের মানদণ্ড কী?
শুধু রাজনৈতিক পরিচয়?
শুধু সিনিয়রিটি?
শুধু সাংগঠনিক পদ?
নাকি পেশাগত দক্ষতা, আদালতে মামলা পরিচালনার সক্ষমতা, সততা, অভিজ্ঞতা, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার যোগ্যতা?
একটি আধুনিক রাষ্ট্রে আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগে একাধিক বিষয় বিবেচনায় আসা স্বাভাবিক—
- পেশাগত দক্ষতা;
- আদালতে কার্যকর মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা;
- সততা ও পেশাগত সুনাম;
- সাংবিধানিক ও আইনগত জ্ঞান;
- রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কাজ করার সক্ষমতা;
- পেশাগত আচরণবিধি অনুসরণের রেকর্ড;
- স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা;
- রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের বাইরে আইনগত মতামত দেওয়ার সক্ষমতা।
অতএব, কোনো ব্যক্তি বহু বছর আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন—এটিই তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন কর্মকর্তা হওয়ার যোগ্য করে না।
একইভাবে নতুন কেউ নিয়োগ পেয়েছেন—এটিই তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য করে না।
মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—যোগ্যতার মাপকাঠিতে কে কোথায় দাঁড়ান?
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এই বিতর্কে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত একটি বিষয় হলো অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব শুধু আদালতে সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করা নয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আইনগত বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া, উচ্চ আদালতে রাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান উপস্থাপন করা এবং রাষ্ট্রের আইনগত স্বার্থ সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রেও এই কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ফলে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তাদের মান ও সক্ষমতা সরাসরি রাষ্ট্রের বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত।
একজন দুর্বল, অদক্ষ বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তা রাষ্ট্রের একটি মামলায় ভুল অবস্থান নিলে তার প্রভাব কেবল একটি মামলায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।
রাষ্ট্রের সম্পদ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাগরিক অধিকার, সাংবিধানিক প্রশ্ন—সবকিছুই কোনো না কোনোভাবে আদালতের সামনে আসতে পারে।
তাই এই কার্যালয়ে নিয়োগকে ‘কে আমাদের লোক’ বনাম ‘কে অন্য পক্ষের লোক’—এই সরল রাজনৈতিক সমীকরণে নামিয়ে আনা উচিত নয়।
এখানে রাষ্ট্রের স্বার্থই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচনা।
দুর্নীতির অভিযোগ: রাজনৈতিক স্লোগান নয়, তদন্ত চাই
বর্তমান বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর জায়গা হতে পারে দুর্নীতির অভিযোগ।
আইন অঙ্গনে কোনো আইন কর্মকর্তা বা সাবেক আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, মামলায় প্রভাব বিস্তার কিংবা অন্য কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সেটিকে রাজনৈতিক বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।
অভিযোগ সত্য হলে তদন্ত হোক। অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযোগকারীও জবাবদিহির আওতায় আসুক।
এটাই হওয়া উচিত আইনের শাসনের স্বাভাবিক পদ্ধতি।
কারও জীবনযাত্রায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেছে—এমন অভিযোগ থাকলে তাঁর সম্পদের উৎস পরীক্ষা করা যেতে পারে।
কারও বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি, আর্থিক লেনদেন ও সাক্ষ্য যাচাই করা যেতে পারে।
কারও বিরুদ্ধে কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দুর্নীতির অভিযোগের কথা বলা হয়ে থাকলে সেই প্রতিবেদন বাস্তবে কী ছিল, তার সুপারিশ কী ছিল এবং পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—এসবও অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে।
কিন্তু শুধু ‘গোয়েন্দা রিপোর্টে অভিযোগ ছিল’ বললেই কেউ অপরাধী হয়ে যান না।
আবার কোনো রিপোর্টকে রাজনৈতিক কারণে চাপা দিয়ে রাখলেও সেটি সুশাসনের লক্ষণ নয়।
অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও প্রমাণ—কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের মিছিল নয়।
এখানেই দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
যদি কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য দুর্নীতির অভিযোগ থাকে, তাহলে সেটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। তদন্তের পর অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
এতে দুই পক্ষই উপকৃত হবে।
অভিযোগ সত্য হলে রাষ্ট্র একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে পারবে।
অভিযোগ মিথ্যা হলে একজন আইনজীবীর পেশাগত সুনামও রক্ষা পাবে।
দ্বিতীয় মেয়াদ না পাওয়া কি ষড়যন্ত্রের প্রমাণ?
একজন আইন কর্মকর্তা দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ না পেলে তাঁর প্রশ্ন তোলার অধিকার অবশ্যই আছে।
কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ না পাওয়া মানেই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র—এই ধারণার কোনো স্বয়ংক্রিয় আইনগত ভিত্তি নেই।
প্রশ্ন হওয়া উচিত—
কেন তাঁকে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হলো না?
তাঁর পেশাগত মূল্যায়ন কী ছিল?
তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল কি?
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা কী?
নিয়োগের ক্ষেত্রে কি অভিন্ন কোনো মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রকাশ্য ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করা হলে বিতর্ক গঠনমূলক হবে।
কিন্তু নিয়োগ না পাওয়ার পর সরাসরি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হলে সেই আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।
‘কোর্ট ডাকাত’ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণ—আইনজীবী রাজনীতির ভাষা হতে পারে না
আইনজীবীদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যও থাকবে।
কিন্তু আদালত অঙ্গনে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অবমাননাকর অভিধা কিংবা চরিত্রহননমূলক বক্তব্য বিচারব্যবস্থার প্রতি জনআস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।
আইনের ভাষা হলো যুক্তি, প্রমাণ ও প্রক্রিয়ার ভাষা।
তাই কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে মামলা হতে পারে, তদন্ত হতে পারে, লিখিত অভিযোগ হতে পারে, সাংগঠনিকভাবে আপত্তি জানানো যেতে পারে।
কিন্তু ব্যক্তিগত অপমান কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিকারের বিকল্প নয়।
বিশেষ করে আইনজীবীরা যখন এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করেন, তখন সেটি আরও উদ্বেগের বিষয়। কারণ সাধারণ মানুষ আইনজীবীদের কাছ থেকেই আইনের শাসন, যুক্তি ও ন্যায়বিচারের সংস্কৃতি প্রত্যাশা করেন।
সংস্কার থামানো নয়, প্রাতিষ্ঠানিক করা প্রয়োজন
নিয়োগে ভুল থাকলে সংশোধন করতে হবে। কেউ অন্যায়ভাবে বাদ পড়ে থাকলে প্রতিকার দিতে হবে। কোনো নবনিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগ থাকলে তাকেও ছাড় দেওয়া যাবে না।
কিন্তু একই সঙ্গে শুধু রাজনৈতিক চাপ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা সাংগঠনিক পরিচয়ের কারণে কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
কারণ একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ব্যক্তিকেন্দ্রিক হলে তা টেকসই হয় না।
আজ একজন অ্যাটর্নি জেনারেল পরিবর্তন করবেন, কাল অন্যজন এসে আবার সব পরিবর্তন করবেন—এভাবে প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয় না।
প্রয়োজন institutional criteria বা প্রাতিষ্ঠানিক মানদণ্ড।
যাতে ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, যে অ্যাটর্নি জেনারেলই দায়িত্বে থাকুন, আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও মূল্যায়নে একটি স্বচ্ছ কাঠামো অনুসরণ করা যায়।
শেষ কথা: বিতর্ক হোক, কিন্তু প্রমাণের ভিত্তিতে
সুপ্রিম কোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকতে হবে। নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকারও থাকবে।
কিন্তু সেই প্রশ্নের ভাষা হতে হবে যুক্তিনির্ভর, তথ্যনির্ভর ও প্রমাণভিত্তিক।
কারও বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিস্ট’ অভিযোগ থাকলে প্রমাণ দিন।
কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তদন্ত দাবি করুন।
কেউ অযোগ্য হলে তাঁর পেশাগত রেকর্ড প্রকাশ করুন।
নিয়োগে অনিয়ম থাকলে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি চিহ্নিত করুন।
কেউ অন্যায়ভাবে বাদ পড়ে থাকলে তার ন্যায্য প্রতিকার দাবি করুন।
কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, অবমাননাকর ট্যাগ এবং রাজনৈতিক স্লোগানকে জবাবদিহির বিকল্প বানানো যাবে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় যেন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক বলয়ের সুবিধা বণ্টনের কেন্দ্র না হয়ে ওঠে।
এটি রাষ্ট্রের আইনগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
তাই সেখানে যোগ্যতা আগে, সততা আগে, পেশাগত দক্ষতা আগে এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের স্বার্থ আগে।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল যদি সত্যিই এই নীতিকে সামনে রেখে কাজ করে থাকেন, তাহলে তাঁর প্রতি সবচেয়ে বড় সমর্থন হবে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে নয়, এই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পক্ষে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া।
কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি রুহুল কুদ্দুস কাজল বনাম তাঁর বিরোধীদের নয়।
প্রশ্নটি হলো—অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় কি যোগ্যতা, সততা, পেশাগত উৎকর্ষ ও জবাবদিহির একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে, নাকি আবারও ব্যক্তিগত তদবির, রাজনৈতিক আনুগত্য ও সুবিধাভোগী সংস্কৃতির কাছে ফিরে যাবে?
এই প্রশ্নের উত্তরই শুধু বর্তমান নিয়োগ বিতর্কের নয়—বাংলাদেশের আইন অঙ্গনের ভবিষ্যৎ প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্রও নির্ধারণ করবে।

