দুর্নীতি দমন কমিশনের করা এক মামলায় পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের একজন ক্লারিকাল সুপারভাইজার ও প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এর পাশাপাশি তাকে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
রোববার চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ জজ আদালতের একজন বিচারক এই রায় দেন, যা সোমবার নিশ্চিত করেন দুদক চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট আইনজীবী। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাকে পলাতক ঘোষণা করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগে যদি তিনি এই মামলায় কোনো কারাভোগ করে থাকেন, তা মূল সাজার মেয়াদ থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। মামলায় জব্দ করা সব আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের একটি ধারায় এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং আরেকটি ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও এক বছরের সাজা ভোগ করতে হবে। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গেই কার্যকর হবে।
মামলার নথি ও দুদকের অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে মাত্র দুইশো ত্রিশ টাকা মূল বেতনে পিয়ন বা অফিস সহায়ক পদে পদ্মা অয়েল কোম্পানিতে যোগ দেন নাছির উদ্দিন। পরবর্তীতে ট্যাংক লরি হেলপার, চেকার এবং পরে ক্লারিকাল সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পান তিনি। এরপর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পান। দুদকের অভিযোগ, এসব পদ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন—যার মধ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বাড়ি, গাড়ি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে আসে।
২০১৯ সালে দুদকের কাছে সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছিলেন নাছির উদ্দিন, যেখানে তিনি সোয়া এক কোটির মতো সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী অনুসন্ধানে দেখা যায়, তিনি প্রায় দুই কোটি বারো লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছিলেন, এবং একই সঙ্গে প্রায় দুই কোটি ছাপ্পান্ন লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদও তার নামে খুঁজে পাওয়া যায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৩ সালে দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের একজন উপসহকারী পরিচালক বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

