চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন। একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত এবং আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীরের সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিষয়টি জানিয়েছেন নুরুল আমীনের আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
এর মধ্য দিয়ে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা আইনি লড়াই নতুন করে সামনে এল। নির্বাচন শেষ হয়ে বিজয়ী হওয়ার পরও তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের কারণে চট্টগ্রাম-২ আসনের ফলাফল প্রকাশ আটকে ছিল।
যেভাবে শুরু হয়েছিল বিরোধ
সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করার পর তাঁর বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপের অভিযোগ তুলে আপিল করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন। শুনানি শেষে ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর। পরে ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাঁকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে রুল জারি করা হয়।
হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হন নুরুল আমীন। ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ তাঁর আবেদন গ্রহণ করে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভোটে জয়, কিন্তু ফল প্রকাশ হয়নি
এরপর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী হন সরোয়ার আলমগীর। কিন্তু আদালতের নির্দেশ থাকায় তাঁর বিজয়ের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।
পরে নুরুল আমীনের করা আপিলের শুনানি শেষে ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। মামলাটি নিষ্পত্তি করে দেওয়া ওই আদেশে হাইকোর্টকে দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর হাইকোর্টে শুনানি শেষে ৯ জুলাই সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। ওই দিনই তিনি শপথ নেন।
এবার আপিল বিভাগের দিকে নজর
হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলেন নুরুল আমীন। তাঁর আবেদনের মূল বিষয় শুধু সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ কি না, তা নয়; এর সঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর কার্যক্রম নিয়েও অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী জানিয়েছেন, হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার পাশাপাশি আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীর যাতে সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্যও আবেদন করা হয়েছে।
ফলে চট্টগ্রাম-২ আসনের নির্বাচনী বিরোধ এখন আবার আপিল বিভাগের বিবেচনায় যাওয়ার পথে। নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রার্থিতা নিয়ে এই আইনি লড়াই শেষ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আসনের রাজনৈতিক ফলাফল ও সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্নটি পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি।

