ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকোসহ নতুন ধরনের তামাকজাত পণ্য এবং নিকোটিন পাউচ বাজার থেকে সরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব পণ্য নিয়ন্ত্রণ বা প্রয়োজনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের কাছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশের একটি তামাকবিরোধী জোট। জোটের ভাষ্যমতে, দুই বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, নতুন ধরনের এসব তামাক ও নিকোটিন পণ্যের ব্যবহার ও বিপণন জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিজেই এসব পণ্যের ক্ষতিকর দিক স্বীকার করেছে। তা সত্ত্বেও দেশে এসব পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধকরণের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা সংবিধান প্রদত্ত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করা হয়েছে আবেদনে।
আবেদনকারীরা যুক্তি দেখান, সংবিধানের একটি ধারায় জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও সুরক্ষাকে রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, আর আরেকটি ধারায় নিশ্চিত করা হয়েছে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা। এই দুই বিধানের আলোকেই ক্ষতিকর পণ্যের বিস্তার ঠেকাতে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। পাশাপাশি এ ধরনের পণ্যের অবাধ বিপণন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের পরিপন্থীও বলে দাবি করা হয়েছে আবেদনে।
আবেদনে অতীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার প্রসঙ্গ টানা হয়েছে, যেখানে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ তামাক শিল্প বা বিড়ি কারখানার লাইসেন্স প্রদান সীমিত করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে বিদ্যমান তামাক ও বিড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে অন্য শিল্পে রূপান্তরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল সেই মামলায়। বাদীপক্ষের যুক্তি, একই নীতি অনুসরণ করে নতুন প্রজন্মের নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্যের বিস্তার ঠেকাতেও রাষ্ট্রকে একইভাবে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
মামলার বাদীরা দীর্ঘদিন ধরে তামাকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন ব্যক্তি, যারা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে এসব ক্ষতিকর পণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতে বাদীপক্ষের হয়ে শুনানি করেন দুজন ব্যারিস্টার, যারা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত সাংবিধানিক বিধান এবং ক্ষতিকর তামাকপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়গুলো আদালতের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
হাইকোর্টের এই রুলের মধ্য দিয়ে দেশে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের জবাবের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা।
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের ব্যবহার ক্রমেই বাড়তে থাকায় এই রুল সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে বাস্তবে এসব পণ্যের বাজার সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে শুধু আইনি নির্দেশনা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন হবে কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা এবং সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধ আমদানি রোধে সমন্বিত উদ্যোগও।

