রাজধানীর গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিলের ঘটনায় করা মামলায় ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে।
রিমান্ড শুনানির সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই রুহুল আমিনকে ভর্ৎসনা করেন বিচারক। মামলার কাগজে আসামিদের পরিচয় ও গ্রেপ্তারের তথ্য নিয়ে ভুল থাকায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
রিমান্ডে যাওয়া ১৫ জন হলেন নিরব খান, সাইফুল ইসলাম, জুয়েল শিকদার, সাহেদ, শান্ত শেখ, হারুন ভাইজভান্ডারী, খালেদ মাহমুদ ফয়সাল, সফিকুর রহমান, বিল্লাল গাজী, ইসমাঈল সিরাজী, আরিফুর রহমান দিপু, ইদ্রিসুল আলম, জয়নাল আবেদীন মামুন, জয়ন্ত কুমার বাড়ৈ ও মোজাম্মেল হক।
মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ
গত ১১ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের আগে গুলশান ১ এলাকায় কয়েক শ মানুষ মিছিল করেন।
পুলিশ মিছিলটি থামাতে গেলে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
ওই দিন গুলশান থানার এসআই মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।
মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা ১৫ আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। বুধবার তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের ওপর শুনানি হয়।
পুলিশের আবেদনে আসামিদের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসামির পরিচয় নিয়ে আদালতে প্রশ্ন
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে তাদের জামিন দেওয়ার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করে।
একপর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, আসামি আরিফুর রহমান ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রলীগের নেতা। কিন্তু মামলার কাগজে তাকে ছাত্রদল নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করেন বিচারক। মামলার কাগজে এমন ভুল কীভাবে হলো, তা জানতে চান তিনি।
আসামিদের কখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটিও মামলার কাগজে স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় প্রশ্ন তোলেন বিচারক।
তদন্তের কাজ ও রিমান্ড আবেদনের ধরন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। মিছিলের পেছনে কারা রয়েছে এবং কী কারণে ঘটনা ঘটেছে, তা খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দেন বিচারক।

