মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও জট কমাতে হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কার্যক্রমে গতি এসেছে। মাত্র ১২ কার্যদিবসে ৬২ হাজার ৬৩৭টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু পুরোনো ফৌজদারি বিবিধ মামলাই নিষ্পত্তি হয়েছে ৫৫ হাজার ৭৩০টি।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ফৌজদারি মোশন বেঞ্চে এক দিনেই ৫ হাজার ৪০৫টি পুরোনো ফৌজদারি বিবিধ মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ১২ কার্যদিবসে নিষ্পত্তি হওয়া পুরোনো ফৌজদারি বিবিধ মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৭৩০টি।
পুরোনো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ফৌজদারি বিবিধ মামলার পাশাপাশি পুরোনো রিট মামলাও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৬২ হাজার ৬৩৭টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
মামলা জট বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সমস্যা। বছরের পর বছর মামলা চলতে থাকায় বিচারপ্রার্থীদের যেমন সময় ও অর্থ ব্যয় হয়, তেমনি আদালতের ওপরও বাড়তে থাকে মামলার চাপ। এই বাস্তবতায় পুরোনো মামলাগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, পুরোনো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় মাত্র ১২ কার্যদিবসে ৬২ হাজার ৬৩৭টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক অর্জন। বিশেষ করে এক দিনে ৫ হাজার ৪০৫টি পুরোনো ফৌজদারি বিবিধ মামলা নিষ্পত্তির বিষয়টিকে তিনি প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, মামলা জট কমাতে সময়োপযোগী ও কার্যকর এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ এবং সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের প্রতি তিনি ধন্যবাদ জানান।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা জানান, গত ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি মোশন ও রিট মোশন বেঞ্চগুলোর বিচারপতিদের নিয়ে পুরোনো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ কার্যক্রমের আওতায় প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে দীর্ঘদিনের পুরোনো ফৌজদারি বিবিধ ও রিট মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানিয়েছে, পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এই বিশেষ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তবে বিপুলসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিচারিক মান ও প্রতিটি মামলায় পক্ষগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। মামলা জট কমানোর এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে বিচারপ্রার্থীদের কতটা স্বস্তি দিতে পারে, তা নির্ভর করবে পুরোনো মামলার পাশাপাশি নতুন করে মামলা জমে ওঠা ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্থার ওপরও।

