রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পথ সুগম করে দেওয়া হাইকোর্টের একটি আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। আজ বুধবার এই আবেদনটি দাখিল করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।
এর আগে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে দায়ের করা একটি রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। উল্লেখ্য, সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য নিজ রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
আপিল বিভাগে দাখিল করা নতুন এই আবেদনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবী জানিয়েছেন, আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি আজ বিকেলেই এই আবেদনের ওপর শুনানি করতে পারেন বলে তাঁর প্রত্যাশা।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার দুই বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিতের আরজি জানিয়ে করা রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্যে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটিই ৭০ অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রাখে, আর এই বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। পাশাপাশি আদালত এটাও পর্যবেক্ষণ করেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল সম্পূর্ণ বৈধভাবেই ঘোষণা করা হয়েছে এবং দায়ের করা রিটে উল্লেখযোগ্য কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
এই রায়ের পরপরই রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের এই আদেশের পর নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট জনস্বার্থে মূল রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। আবেদনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি রুল জারির আরজি জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি সেই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ আগস্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলের ওপর একটি অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশেরও আবেদন জানানো হয়েছিল, যা এখন আপিল বিভাগে নতুন করে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হলো।

