দীর্ঘ কারাবাসের পর অবশেষে মুক্তি পেলেন দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। বুধবার রাজধানীর কেরানীগঞ্জে অবস্থিত বিশেষ কারাগার থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কারা অধিদপ্তরের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, বনানী থানায় দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে সাময়িক বা অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান তিনি। এর আগে অন্য আটটি পৃথক মামলায় ইতিমধ্যে জামিনে ছিলেন খায়রুল হক। তবে বনানী থানার এই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য গত ২ জুলাই আদালতে আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এর প্রেক্ষিতে ৮ জুলাই তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
মামলার আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২৭ জুলাই নিম্ন আদালতে করা জামিন আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপর ৯ আগস্ট তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। শুনানি শেষে পরদিন অর্থাৎ ১০ আগস্ট আদালত তাকে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন। প্রায় দেড় সপ্তাহ পর, বুধবার তিনি কারাগারের বাইরে আসতে সক্ষম হন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। ওইদিন রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত সেতু ভবনের সামনে আন্দোলনরত ব্যক্তিরা অবস্থান নিয়েছিলেন। তারা যখন সেখান থেকে শাহবাগ অভিমুখে রওনা হন, তখন তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে, যাতে উজ্জ্বল মিয়াসহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি আহত হন।
এই ঘটনার জেরে আহত উজ্জ্বল মিয়া বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা এবং বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন, যে মামলাতেই পরবর্তীতে সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে আসামি করা হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে অবশেষে এই মামলাতেই জামিন পেয়ে মুক্ত হলেন তিনি।

