ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারকের বিরুদ্ধে তাঁর গাড়িচালককে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক সোহেল রানার খাসকামরায় এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন গাড়িচালক আলী হোসেন বাচ্চু। তবে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে এমন কোনো ঘটনা ঘটার কথা অস্বীকার করা হয়েছে।
চালক বাচ্চুর ভাষ্যমতে, তিনি প্রায় এক বছর দশ মাস ধরে এই দায়িত্বে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি বিচারক সাবেরা খানমের অধীনে কাজ করতেন, তাঁর বদলির পর বর্তমান বিচারক এই ট্রাইব্যুনালে যোগ দেন। আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিচারকের পিয়ন তাঁকে ডাকেন বলে জানান বাচ্চু। তিনি লগবই নিয়ে খাসকামরায় গেলে বিচারক লগবইয়ে উল্লেখ করা সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, কেন সেখানে সাতটা সময় লেখা হয়েছে।
বাচ্চু জানান, তিনি ব্যাখ্যা দেন যে বিচারক সকাল আটটায় গাড়িতে ওঠেন বলে গাড়ি ধোয়া-মোছার জন্য তাঁকে আগেই আসতে হয়। তাঁর দাবি, এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে বিচারক তাঁর চোখে ঘুষি মারেন এবং কানে থাপ্পড় দেন। এরপর বিচারকের পিয়ন তাঁর হাত ধরে টেনে সরিয়ে দেন এবং লাথি মারার চেষ্টা করেন, যদিও তা তাঁর গায়ে লাগেনি বলে জানান বাচ্চু। এই ঘটনার পর তাঁর চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে এবং চোখ ফুলে যায় বলে তিনি জানান।
বাচ্চু আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে বাদ দিয়ে একজন গানম্যান দিয়ে গাড়ি চালানো হচ্ছে, যিনি গাড়িতে অনিয়মিত কার্যক্রম চালান বলে তাঁর দাবি। এ ছাড়া সরকারি বরাদ্দকৃত জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ ব্যবহার না করে তার টাকা তোলার অভিযোগও তিনি করেছেন। এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণেই বিচারক তাঁর প্রতি বিরূপ হয়ে ওঠেন বলে মনে করেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন বাচ্চু।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর একজন চালক জানান, ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় বাচ্চু তাঁদের কাছে আসেন, পরে তাঁকে একজনের সহায়তায় ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তাঁর এক চোখে ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
তবে বিচারকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের এক কর্মচারী জানান, বেশ কিছুদিন ধরে বাচ্চু গাড়ি পরিষ্কার না করায় বিচারক তাঁকে খাসকামরায় ডেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। বাচ্চু গাড়ি পরিষ্কার করতে অপারগতা জানালে বিচারক তাঁকে ধমক দিয়ে বের করে দেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্যমতে, মারধরের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

