জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ১০ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়। মামলাটিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজ দিন নির্ধারিত থাকায় কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
ট্রাইব্যুনালে হাজির করা ১০ আসামি হলেন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলম, সাবেক সংসদ সদস্য সোলাইমান সেলিম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, হামলা, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।
মামলাটির শুরুতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ৪৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল। পরে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করছে প্রসিকিউশন।
এরই মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও আব্দুর রাজ্জাককে শাপলা চত্বরে গণহত্যার অভিযোগে করা মামলাতেও আসামি করা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের দায় নির্ধারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই আজকের এই হাজিরা। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর মামলাটির পরবর্তী আইনি কার্যক্রম কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

