বছরের পর বছর বিচারাধীন থাকা পুরোনো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নির্দেশনার পর গত ৭ মে থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে মাত্র ১৩ কার্যদিবসে ৬০ হাজার ৪৪৮টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
পুরোনো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন ও রিট মোশন বেঞ্চগুলো প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার নির্দিষ্ট দিনে এসব মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।
সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা যায়, ৭ মে প্রথম দিনেই ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে ৩ হাজার ২৪৭টি ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং রিট মোশন বেঞ্চে ১ হাজার ৭৬৫টি পুরোনো রিট মামলা নিষ্পত্তি হয়।
এরপর ১৪ মে ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে ৩ হাজার ৮৪২টি এবং রিট মোশন বেঞ্চে ৩ হাজার ২৬২টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। ১১ জুন ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে নিষ্পত্তি হয় ৬ হাজার ১৯৯টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা।
১৮ জুন ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে ১ হাজার ৮৮৪টি এবং রিট মোশন বেঞ্চে ৫৪১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। ২৫ জুন নিষ্পত্তি করা হয় যথাক্রমে ৩ হাজার ৯টি ও ৪০০টি মামলা।
২ জুলাই ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে ১ হাজার ৬৫৫টি এবং রিট মোশন বেঞ্চে ৭৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। ৯ জুলাই নিষ্পত্তি হয় ১ হাজার ৭৮৬টি ক্রিমিনাল মিস ও ১৬০টি রিট মামলা।
এরপর ১৬ জুলাই ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে ৬ হাজার ৩১৭টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং রিট মোশন বেঞ্চে ২৩টি পুরোনো রিট মামলা নিষ্পত্তি হয়।
২৩ জুলাই এক কার্যদিবসে ৭ হাজার ৮৫৩টি ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করে নতুন রেকর্ড তৈরি করে হাইকোর্টের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ। এর এক সপ্তাহ পর ৩০ জুলাই আরও ৭ হাজার ৫৬৫টি ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়।
৬ আগস্ট নিষ্পত্তি করা হয় ৬ হাজার ৯৬৮টি ক্রিমিনাল মিস মামলা। ১৩ আগস্ট ৫ হাজার ৪০৫টি এবং ২০ আগস্ট আরও ৪ হাজার ৭১৮টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়।
সব মিলিয়ে ১৩ কার্যদিবসে ৬০ হাজার ৪৪৮টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
মামলা জট বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন কোনো মামলা বিচারাধীন থাকলে শুধু আদালতের ওপর চাপ বাড়ে না, বিচারপ্রার্থীদেরও বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। সেই জায়গা থেকে পুরোনো মামলা চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির এই উদ্যোগ বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও কার্যকর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, মামলা জট কমাতে প্রধান বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।
তিনি বলেন, মামলা জট বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার দীর্ঘদিনের বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা মোকাবিলায় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
পুরোনো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির এই ধারাবাহিকতা কতটা স্থায়ীভাবে মামলা জট কমাতে পারে, এখন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে মাত্র ১৩ কার্যদিবসে ৬০ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান অন্তত দেখাচ্ছে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে দীর্ঘদিনের জমে থাকা মামলার চাপ কমানো সম্ভব।

