একই বিষয়ে বারবার রিট আবেদন করে আদালতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকানোর অভিযোগে একজন রিটকারী ও তার আইনজীবীকে মোট দশ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আপিল বিভাগ। নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ-সংক্রান্ত মামলায় আদালতের সঙ্গে প্রতারণার প্রমাণ পাওয়ায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। জরিমানার মুখে পড়েছেন রিট আবেদনকারী মো. নুর আলম এবং তার পক্ষে দাঁড়ানো আইনজীবী সুফিয়া আহমেদ।
মামলার শুনানিতে নুর আলমের পক্ষে অংশ নেন একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, আর বিপরীত পক্ষে অর্থাৎ নিকাহ রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মুরাদের পক্ষে শুনানি করেন তিনজন আইনজীবীর একটি দল।
শুনানির সময় আদালতের নজরে আসে, একই বিষয় নিয়ে একাধিকবার পৃথক রিট দায়ের করা হয়েছে, আর তার সঙ্গে গোপন রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়েই আদালত রিটকারী ও তার আইনজীবীর বিরুদ্ধে জরিমানার আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, দুজনকেই আলাদাভাবে পাঁচ লাখ টাকা করে—সব মিলিয়ে দশ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। এই অর্থ আগামী ত্রিশ দিনের মধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
ঘটনার সূত্র ধরে জানা যায়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার একটি ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে মিজানুর রহমান মুরাদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্ট বিভাগে একাধিক রিট আবেদন করেছিলেন মোহাম্মদ নুর আলম। কিন্তু এসব আবেদন করার সময় আগের একটি মামলার তথ্য তিনি আদালতের কাছ থেকে গোপন রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত এই তথ্য গোপনের বিষয়টিই তার এবং তার আইনজীবীর জন্য জরিমানার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

