সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১১ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়েছে। আগামী ১১ অক্টোবর মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে গত ৩ মে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম।
দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে সম্পদের যে হিসাব
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ তাঁর দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন।
তবে তদন্তে তাঁর নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে দুদক। সব মিলিয়ে তাঁর নামে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে অভিযোগপত্রে।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের বৈধ আয়ের উৎস থেকে পাওয়া অর্থের পরিমাণ ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদ দেওয়ার পর তাঁর নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা।
এই হিসাবের ভিত্তিতে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
অর্থের উৎস ও মালিকানা গোপনের অভিযোগ
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করেছেন। এ জন্য বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এবং আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।

