সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে ‘লেডি মীর জাফর’ বলে মন্তব্য করা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নজরুল ইসলাম ছোটনের বক্তব্যকে ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে দেখছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এ কারণে ছোটনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা সরকারি কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
ডিএজির বিরুদ্ধে রুমিন ফারহানার অভিযোগের বিষয়ে মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেল এসব কথা বলেন।
রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের সঙ্গে কথা বলেছেন। ছোটন তাকে জানিয়েছেন, রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং অতীতের একটি ভিডিও নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন।
ছোটনের বক্তব্যের ব্যাখ্যা পাওয়ার পর তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
তার ভাষ্য, ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মত প্রকাশের অধিকার ডিএজি ছোটনের রয়েছে। ওই বক্তব্যের সঙ্গে তার সরকারি দায়িত্ব বা প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপের সম্পর্ক নেই।
এ কারণে ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
রুমিনের অভিযোগ
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে আবেদন করেন রুমিন ফারহানা।
১১ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তাকে উদ্দেশ করে ডিএজি ওই মন্তব্য করেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।
রুমিনের অভিযোগ, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এমন বক্তব্য অশোভন ও পেশাগত আচরণের পরিপন্থী।
তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য একজন নারী ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাকে অপমানিত করেছে। একই সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ভাবমূর্তি ও পেশাদারিত্বও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রুমিন আরও বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে, কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। তাই রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন।
আবেদনে ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান রুমিন ফারহানা।
রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য।

