সাবেক আইনমন্ত্রী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুল হক ও তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মোট ২৩টি ব্যাংক হিসাবে বিপুল অঙ্কের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তদন্তে উঠে আসা এই লেনদেনের পরিমাণ প্রায় সাতশ সাঁইত্রিশ কোটি টাকা।
বুধবার দুদক প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির সচিব এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই ২৩টি ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিনশ পঁচাত্তর কোটি টাকা, আর উত্তোলন করা হয়েছে প্রায় তিনশ একষট্টি কোটি টাকার বেশি। জমা ও উত্তোলন—দুই মিলিয়ে মোট অস্বাভাবিক লেনদেনের অঙ্কটি দাঁড়িয়েছে সাতশ সাঁইত্রিশ কোটি চব্বিশ লাখ টাকার বেশি।
তদন্তের অগ্রগতিতে আনিসুল হকের ঘোষিত সম্পদের হিসাবের বাইরেও নতুন করে তিনজনের নাম উঠে এসেছে, যারা তার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাদের মধ্যে রয়েছেন তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, একজন ভাগ্নে এবং কাজিন পরিচয়ধারী এক ব্যক্তি। এই তিনজনের নামে প্রায় চুরাশি কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুদক। নিজের নামে থাকা সম্পদ যুক্ত করলে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে সামগ্রিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় একশ বাহাত্তর কোটি টাকা।
তদন্তে দেখা গেছে, আনিসুল হকের নিজের নামে রয়েছে প্রায় ছিয়ানব্বই কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ। এর বাইরে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও প্রায় চুরাশি কোটি টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তার ভাইয়ের স্ত্রীর নামে রয়েছে প্রায় তেইশ কোটি টাকা, ভাগ্নের নামে প্রায় একুশ কোটি টাকা এবং কাজিন পরিচয়ধারী ব্যক্তির নামে প্রায় চল্লিশ কোটি টাকার সম্পদ।
এসব সম্পদের একটি বড় অংশ রয়েছে সিটিজেনস ব্যাংকের শেয়ার ও নির্দিষ্ট মেয়াদি আমানত হিসেবে। ভাইয়ের স্ত্রীর নামে রয়েছে ওই ব্যাংকের শেয়ার ও এফডিআর মিলিয়ে প্রায় তেইশ কোটি টাকা, ভাগ্নের নামে বিশ কোটি টাকার বেশি শেয়ার এবং কাজিন পরিচয়ধারী ব্যক্তির নামে চল্লিশ কোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার রয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে।
তদন্তে আনিসুল হক এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের পাশাপাশি দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক। এই তদন্তের ফলাফল সাবেক আইনমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা তার ও তার পরিবারের সদস্যদের আর্থিক লেনদেনের বিস্তৃত একটি নেটওয়ার্কের ছবি তুলে ধরছে।

