ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া ও অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগের মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুখমিলা জামানসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে আরও দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীদের জেরা করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের পিপি মোকাররম হোসাইন জানান, এ নিয়ে মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ৪৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন রেখেছেন আদালত।
অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণের অভিযোগ
দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে মালিক দেখিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়। পরে জাল নথি ব্যবহার করে ইউসিবির পোর্ট শাখা থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ দুদকের।
তদন্তে সংস্থাটি আরও বলেছে, ঋণ অনুমোদনের আগে ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল। এরপরও রুখমিলা জামানের প্রভাব ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সরাসরি হস্তক্ষেপে ঋণটি অনুমোদন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদকের তদন্তে সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে ইউসিবির ‘ডি ফ্যাক্টো’ চেয়ারম্যান হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য, চেয়ারম্যান পদে রুখমিলা জামান থাকলেও ব্যাংকের ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ ছিল সাইফুজ্জামান চৌধুরীর।
ঋণের অর্থ অন্য প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের অভিযোগ
দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামের পুরোনো দেনা পরিশোধে ব্যবহার করা হয়।
বাকি প্রায় ৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা নগদে তোলা হয়। পরে হুন্ডি ও হাওলা পদ্ধতিতে দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে ওই অর্থ পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
২৩ বস্তা নথি উদ্ধারের দাবি
দুদক জানিয়েছে, মামলার তদন্তের সময় রুখমিলা জামানের গাড়িচালকের এক প্রতিবেশীর বাসা থেকে ২৩ বস্তা নথি ও বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।
সংস্থাটির দাবি, এসব নথি যাচাই করে বিদেশে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ১০০টির বেশি ফ্ল্যাট ও অন্যান্য রিয়েল এস্টেট সম্পদ কেনার তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও রুখমিলা জামানসহ ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ এনেছে দুদক।
২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও রুখমিলা জামানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। তবে দুদকের দাবি, ওই নিষেধাজ্ঞার আগেই তারা বিদেশে চলে যান।
মামলাটিতে গত ৪ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। বুধবার আরও দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়েছে।

