জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে সুপ্রিম কোর্টে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অফিস সহকারী মোহাম্মদ গোলাম মাওলাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে চাকরির সময় বেতন ও ভাতা হিসেবে নেওয়া ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট বিভাগ।
আগামী ৩০ দিনের মধ্যে অটোমেটেড চালান সিস্টেমের মাধ্যমে ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
এ বিষয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের সাধারণ ও সংস্থাপন শাখা থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, রাজধানীর হাতিরপুলের বাসিন্দা গোলাম মাওলা জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ব্যবহার করে হাইকোর্ট বিভাগের অফিস সহকারী পদে নিয়োগ নেন।
তিনি ২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে চাকরিতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন চাকরি করার পর তার বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় ২০২১ সালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি বিধি অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জাল ও জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি শিক্ষাগত সনদের ভিত্তিতে চাকরি নেওয়ায় গোলাম মাওলার চাকরি শুরু থেকেই বাতিল বলে গণ্য হবে।
ফলে চাকরির পুরো সময়ে তিনি কোনো বেতন বা ভাতা পাওয়ার অধিকারী ছিলেন না।
আদেশে বলা হয়, ২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরি করে গোলাম মাওলা বেতন ও ভাতা হিসেবে মোট ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা নিয়েছেন।
চাকরি শুরু থেকেই বাতিল হিসেবে গণ্য হওয়ায় ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আগামী ৩০ দিনের মধ্যে অটোমেটেড চালান সিস্টেমের মাধ্যমে পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

