আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করার অভিযোগে আদালত অবমাননার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী। বুধবার বেলা ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২ এ হাজির হন মো. হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ট্রাইব্যুনাল তাঁদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত ১৫ সেপ্টেম্বর। ওই দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ের পর দুই আইনজীবী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক পোস্ট দেন। এসব মন্তব্যকে আদালত অবমাননাকর হিসেবে দেখিয়ে পরদিন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পর ট্রাইব্যুনাল দুই আইনজীবীকে ২৩ সেপ্টেম্বর হাজির হয়ে তাঁদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলেন। অর্থাৎ, অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য সরাসরি শোনার সুযোগও রাখা হয়েছে।
কেন বিষয়টি আদালত অবমাননার পর্যায়ে গেল
আদালতের কোনো রায় বা কার্যক্রমের সমালোচনা করা এবং সেই সমালোচনা আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার মতো আচরণে পরিণত হওয়া এক বিষয় নয়। আদালত অবমাননার অভিযোগে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় মন্তব্যের ধরন, প্রেক্ষাপট এবং তা বিচারিক কার্যক্রম বা আদালতের মর্যাদার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ঘটনায় প্রসিকিউশনের অভিযোগের ভিত্তি হলো দুই আইনজীবীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁদের মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালের রায়কে অবৈধ ও বানোয়াট হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা শুনানি ও আইনজীবীদের ব্যাখ্যার পরই নির্ধারিত হবে।
এদিকে, ১৫ সেপ্টেম্বরের ওই মামলায় ট্রাইব্যুনাল ওবায়দুল কাদেরের পাশাপাশি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

