সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার তাকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ওবায়দুর গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক। তিনি মরিয়মের মামাও।
এর আগে গাজী নজরুলকে চার দিন এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা আক্তারকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। এক দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গাজী নজরুল এখনো রিমান্ডে রয়েছেন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এরপর পুলিশ গাজী নজরুল ও মাকসুদাকে হেফাজতে নেয়। পরদিন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন।
মামলায় গাজী নজরুল, মাকসুদা ও ওবায়দুরকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত জুনে ওবায়দুরের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর মরিয়ম ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে নজরুল ও মাকসুদার সঙ্গে থাকতেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
এ বিষয়ে মরিয়ম তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের সময় বিছানার ওপর মরিয়মের লেখা একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া যায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

