রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের মামলায় ছয় আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন মো. শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, মো. শাহআলম, মো. আতিকুর রহমান, মো. কামরুল ইসলাম ও মো. শাকিল।
এর আগে শাহ আলী থানার এসআই মো. আতোয়ার রহমান আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও পুলিশ দাবি করেছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে রাখার আবেদন জানানো হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত এ বিষয়ে শুনানির জন্য সোমবার দিন ঠিক করেছেন।
এর আগে একই ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও চার আসামিকে শনিবার কারাগারে পাঠানো হয়।
মধ্যরাতে ক্লিনিকে হামলার অভিযোগ
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে একদল লোক রাড্ডা এমসিএইচ এফপি সেন্টারে ঢোকে।
তাদের হাতে হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তারা দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার ও মো. আব্দুল হাইকে মারধর করে বেঁধে রাখে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রধান ফটক ভেঙে ভেকু নিয়ে ভেতরে ঢোকে। পরে একটি সেমিপাকা ঘর ভেঙে ফেলা হয়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা সেবার আরেকটি ঘর ও আসবাব ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়েছে। এতে প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া ক্লিনিকের ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত ঘর, আসবাব ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
রেজিস্ট্রেশন শাখাতেও ভাঙচুর চালানো হয়। সেখানে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের দরজা ও জানালা ভাঙচুর করা হয়। এতে আরও প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় বলা হয়েছে।
প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা ক্লিনিক থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী নিয়ে যায়।
এ ছাড়া দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে পাঁচটি ঘর, দরজা ও জানালা ভাঙচুর এবং মালামাল নিয়ে যাওয়ায় প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি দেখায় ও হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে সেখানে একটি দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যাওয়ার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। এতে মো. হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

