আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক মানুষকে গুম করে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা সাব্বির রহমান ওসমানীকে জেরা শেষ করেছে আসামিপক্ষ।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এ সাব্বির রহমানকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সাহিদুর রহমান।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন মামলার ১৩তম সাক্ষী সাব্বির রহমান।
জবানবন্দিতে তিনি ২০১০ সালের মে থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত র্যাবে দায়িত্ব পালনের সময়ের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেন। এ সময় বরগুনার পাথরঘাটা ও সুন্দরবন এলাকায় র্যাবের পরিচালক গোয়েন্দা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন জিয়াউল আহসান।
জেরার সময় সাব্বির রহমান বলেন, বরিশালে র্যাব ৮ এ জিয়াউল আহসান কিছু অস্ত্র ও গুলি দিয়ে রেখেছিলেন। এসব অস্ত্র ও গুলির কোনো হিসাব রাখা হতো না।
এসব অতিরিক্ত অস্ত্র ও গুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল জানতে চাইলে সাব্বির রহমান বলেন, এগুলো ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার জব্দ করা আলামত থেকে আনা হয়েছিল।
১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় কী ধরনের অস্ত্র ছিল, তা তিনি জানেন না বলেও জানান।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বরের জবানবন্দিতে সাব্বির রহমান ২০১১ সালের জুনের একটি ঘটনার বর্ণনা দেন।
তিনি বলেন, ওই সময় জিয়াউল আহসান তাকে ফোন করে ‘গলফ কাজে’ নিয়োজিত মাঝি আলকাছ মাঝি সম্পর্কে জানতে চান। সাব্বির জানান, ওই মাঝির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
এতে জিয়াউল আহসান কিছুটা বিরক্ত হন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন সাব্বির। তিনি বলেন, আলকাছ মাঝি ‘গলফ অপারেশন’ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য চরদুয়ানী বাজারে বলে বেড়াচ্ছেন বলে জিয়াউল তাকে জানিয়েছিলেন।
জবানবন্দি অনুযায়ী, জিয়াউল আহসান আলকাছ মাঝিকে ‘এলিমিনেট’ করার নির্দেশ দেন।
সাব্বির রহমান বলেন, এর প্রায় এক সপ্তাহ পর আলকাছ মাঝির পরিবারের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, জিয়াউল আহসান ফোন করে ডেকে নেওয়ার পর থেকে আলকাছকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

