ফুডপান্ডার অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের বিরুদ্ধে করা দুই মামলার তদন্তে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৪৬ হাজার ২৫০ টাকা আত্মসাতের তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
ব্যবসায়ী শিহাব মাহমুদ বশির প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে পান্ডামার্টের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেছিলেন। এর মধ্যে দুই মামলার তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ।
এক মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পান্ডামার্টের পরিচালক সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্য মামলায়ও পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অন্য অভিযুক্তরা হলেন ফুডপান্ডার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুবায়ের বি এ সিদ্দিকী, পরিচালক তাবরেজ খান, হেড অব ক্যাটাগরি ডিরেক্টর দিলারা ফারুক এবং সিনিয়র ম্যানেজার সাজেদুল হক।
গুলশান থানার উপপরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন গত ২৬ জুলাই একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেন। আরেক মামলার প্রতিবেদন দেন উপপরিদর্শক মশিউর রহমান। তিনি গত ২২ জুন প্রতিবেদন জমা দেন।
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় যে পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছিল, তদন্তে তার চেয়ে বেশি অর্থ আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে।
পণ্য সরবরাহের পর পাওনা নিয়ে বিরোধ
মামলার বাদী শিহাব মাহমুদ বিভিন্ন দেশ থেকে এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতেন।
২০২২ সালের ২৩ জুন তিনি পান্ডামার্টের সঙ্গে পণ্য সরবরাহের চুক্তি করেন। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম অনুযায়ী পণ্যের দাম পরিশোধ করত।
পরে পাওনা পরিশোধে গড়িমসি শুরু হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। টাকা চাইলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত শিহাব প্রায় চার কোটি টাকার পণ্য সরবরাহ করেন। এর মধ্যে আড়াই কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। বাকি দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।
পণ্য নষ্ট বা ফেরত নেওয়ার বিষয়ে চুক্তিতে কোনো শর্ত ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরে পণ্য নষ্ট দেখিয়ে ভুয়া চালান তৈরির অভিযোগ ওঠে।
শিহাবের দাবি, এভাবে পাওনা টাকা না দেওয়ার পাশাপাশি তার ব্যবসায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
তদন্তে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিহাবের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি ৫৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৮২ টাকা।
এ ছাড়া কর্মীদের বেতন, গুদাম ভাড়া, ফ্রিজার গাড়ির ভাড়া এবং পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার কারণে তার আরও ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্য মামলায় বলা হয়, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিহাব তিন কোটি টাকার পণ্য সরবরাহ করেন। এর মধ্যে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।
তদন্তে ওই মামলায় শিহাবের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ২৪ লাখ ২৭ হাজার ৪৬ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
এই দুই মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মফিজুল ইসলাম বলেন, পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে। সেখানে আসামিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মামলাটি ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
উপপরিদর্শক মশিউর রহমান বলেন, মামলাটি নথিপত্র ও লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
বাদী শিহাব মাহমুদ বলেন, পান্ডামার্টের বিরুদ্ধে তিনি চারটি মামলা করেছেন। এর মধ্যে দুটি মামলার প্রতিবেদন এসেছে। বাকি দুটি এখনো তদন্তাধীন।
ফুডপান্ডা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা আমবারীন রেজা বলেন, মামলার বিষয়ে তিনি অবগত নন। বিষয়টি তাদের আইনজীবীরা দেখছেন।

