কুষ্টিয়ায় নিজের বাড়ি ও গোডাউনে হামলার ঘটনায় মামলা করেছিলেন ৬৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগম। পরে সেই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পর তিনিই সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেছেন।
রোববার সকালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামের বাড়ি থেকে নূরজাহানকে নিয়ে যায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, কৃষকদলের কার্যালয়ে হামলার মামলায় নূরজাহানকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পরিবারের দাবি, নূরজাহানকে ওসি কথা বলবেন বলে পুলিশ বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা পরিবার জানতে পারে আদালতে পাঠানোর পর।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সামাজিক ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নূরজাহানের বাড়ি ও পাটের গোডাউনে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নূরজাহান বাদী হয়ে ২১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া আদালতে মামলা করেন। মামলায় ৬২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
নূরজাহানের মেয়ে সেলিনা আক্তার শিল্পীর দাবি, হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। পরে কৃষকদলের স্থানীয় কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, রোববার সকালে কয়েকজন পুলিশ বাড়িতে এসে নূরজাহানকে জানান, গোডাউন পোড়ানোর মামলার বিষয়ে ওসি তার সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।
নূরজাহানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর তারা মায়ের কোনো খবর পাচ্ছিলেন না। পরে থানায় গিয়ে জানতে পারেন, তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামের কৃষকদলের কার্যালয়ে হামলা ও সেখানে থাকা ব্যক্তিদের মারধরের অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদল নেতা হাবিবুর রহমান ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়।
ওই মামলায় নূরজাহানকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার আদালতে পাঠায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশ। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি এসএম মামুনুর রশিদ বলেন, কৃষকদল কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় নূরজাহান জড়িত ছিলেন। এ কারণে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদী হাবিবুর রহমান ও স্থানীয় কৃষকদলের সভাপতি আবদুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

