সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসি বাস ভাড়া দেওয়া বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট
সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসির বাস ইজারা বা ভাড়া দেওয়া বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করা হয়েছে।
রিটে এসব বাস সাধারণ যাত্রীদের পরিবহনে ব্যবহারের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর রিটটি করা হয়। রিট পিটিশন নম্বর ১৩৯৭১/২০২৬।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে রিটটি করেন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বিআরটিসির চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্পোরেশন আইন ২০২০ এর ৫ ও ২২ ধারা অনুযায়ী বিআরটিসির বাস সাধারণ মানুষের গণপরিবহনের জন্য ব্যবহারের কথা।
তবে রিটকারীর দাবি, এই নিয়ম না মেনে বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয়, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য বিআরটিসির বাস ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। রিটে এই কার্যক্রমকে আইনবহির্ভূত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটকারীর আরও দাবি, বিআরটিসির বাস ইজারা নীতিমালা ২০০৭ এর ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিজ্ঞ বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবসায়ীরা বাস ইজারা নিতে পারেন। একই নীতিমালার ৫(১৭) অনুচ্ছেদে তৃতীয় পক্ষের কাছে বাস হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিআরটিসির বাস ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি ওই নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ ছাড়া জনগণের করের টাকায় কেনা বিআরটিসির বাস সাধারণ মানুষের পরিবর্তে সরকারি কর্মকর্তাদের যাতায়াতে ব্যবহার করা হলে তা সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। রিটে অর্থনীতির আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ এবং ফিসক্যাল মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্টের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।
রিটকারীর বক্তব্য, সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআরটিসি থেকে বাস ভাড়া নিলে সরকারি অর্থ এক খাত থেকে অন্য সরকারি খাতেই থাকে। অন্যদিকে বেসরকারি পরিবহন খাত থেকে বাস ভাড়া করা হলে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
রিটে আরও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের যাতায়াতে অনেক বিআরটিসি বাস ব্যবহৃত হওয়ায় সাধারণ মানুষ, নারী ও শিক্ষার্থীরা গণপরিবহন সংকটে পড়ছেন। এ কারণে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসির বাস ভাড়া দেওয়ার কার্যক্রম কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সরকারি কাজে ব্যবহৃত সব বিআরটিসি বাস প্রত্যাহার করে সাধারণ যাত্রীদের জন্য নিয়মিত বাণিজ্যিক রুটে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। রিটটি শিগগিরই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

