জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ছিল। তবে দুদক এদিন প্রতিবেদন দিতে পারেনি।
এ কারণে আদালত আগামী ২৩ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন দিন ধার্য করেছেন। প্রসিকিউশন পুলিশের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
পলককে আদালতে হাজির করা হলেও তাকে এজলাসে তোলা হয়নি। তাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানি শেষে তাকে প্রিজনভ্যানে করে কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় হাতকড়া পরা হাত উঁচিয়ে পলক বলেন, “জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হাত।”
পলকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পলক কারাগারে রয়েছেন। বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে এবং নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
আইনজীবীর ভাষ্য, জামিন না পাওয়ায় পলক মনে করছেন তার মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ কথাই তিনি ওই বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন।
দুদকের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সমন্বিত ঢাকা জেলা কার্যালয় ১ এ মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পলক অবৈধভাবে তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৮ কোটি ৭৩ লাখ ৪৭ হাজার ৪২ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন।
এ ছাড়া তার নামে থাকা ২৫টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩২ কোটি ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৩১৪ টাকা জমা এবং ২৯ কোটি ৮৪ লাখ ৭২ হাজার ৯৫ টাকা উত্তোলনের কথা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, এসব অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে ঘুষ ও দুর্নীতির অর্থ মানিলন্ডারিং করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পলককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে একাধিকবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

