রাজধানীর আবুজর গিফারী কলেজের গভর্নিং বডির কার্যক্রম নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশ অমান্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলেজটির সাবেক সভাপতি আবু নাসের আহমেদ ইশতিয়াক ও অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আদালতের আদেশ অমান্য করে কার্যক্রম চালিয়ে গেলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। তাদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
কলেজের বর্তমান সভাপতি মো. মামুন চৌধুরীর করা আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নূর উল মতিন।
যেভাবে বিরোধের শুরু
মামলার তথ্য অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আবুজর গিফারী কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়।
এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামুন চৌধুরী হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের শুনানি শেষে গত ২৩ জুন হাইকোর্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ২২ এপ্রিলের সিদ্ধান্তসংক্রান্ত চিঠির কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন।
এরপর কলেজের সাবেক সভাপতি আবু নাসের আহমেদ ইশতিয়াক ও অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর চেম্বার জজ আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে হাইকোর্টে চলমান রুল ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেন।
আদেশ অমান্যের অভিযোগ
রিটকারী পক্ষের অভিযোগ, চেম্বার জজ আদালতের আদেশ অনুযায়ী রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক মামুন চৌধুরীরই গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা।
তবে অভিযোগ করা হয়েছে, আবু নাসের আহমেদ ইশতিয়াক ও মো. ফরিদ আহমেদ ওই আদেশের পরও কলেজের গভর্নিং বডির কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নেন।
আবেদনে বলা হয়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে সকাল ১০টায় কলেজের গভর্নিং বডির সভা ডাকা হয়। সভাটি আবু নাসের আহমেদ ইশতিয়াকের কর্মস্থলে আয়োজন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রিটকারী পক্ষের দাবি, এই সভা আয়োজন ৯ সেপ্টেম্বরের চেম্বার জজ আদালতের আদেশের সরাসরি লঙ্ঘন। এ ছাড়া কলেজের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা এবং সেখান থেকে অর্থ তোলারও অভিযোগ করা হয়েছে দুজনের বিরুদ্ধে।
আইনি নোটিশের পর রিট
আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর আবু নাসের আহমেদ ইশতিয়াক ও মো. ফরিদ আহমেদকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে তাদের কার্যক্রমের ব্যাখ্যা চাওয়া হয় এবং কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
রিটকারী পক্ষের অভিযোগ, নোটিশ পাওয়ার পরও তারা আদালতের আদেশের বাইরে গিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যান। এরপর অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরী হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট দুজনের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন।
রুল পাওয়া দুজনের একজন আবু নাসের আহমেদ ইশতিয়াক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক। অন্যজন মো. ফরিদ আহমেদ আবুজর গিফারী কলেজের অধ্যক্ষ।

