জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয়েছে। এই মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৪ আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।
তাদের খুঁজে না পাওয়ায় দুইটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২ এই আদেশ দেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে ছিলেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম ও সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা।
৩৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি
শুনানিতে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন বলেন, মামলার ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় অভিযান চালিয়েছে। তবে অভিযানে কাউকেই পাওয়া যায়নি। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নন এক্সিকিউশন রিপোর্ট জমা দেয়।
এরপর প্রসিকিউশন দুইটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমতি চায়। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের হাজির করার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২৭ অক্টোবর।
কারাগারে থাকা চার আসামি ট্রাইব্যুনালে
এদিন মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামিকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন রাজশাহী ৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।
অন্য ৩৪ আসামির মধ্যে রয়েছেন এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা ও খালিদ হাসান বিপ্লব।
এ ছাড়া রয়েছেন রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী ও আব্দুল মোমিন।
তালিকায় আরও রয়েছেন শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব ও ফরহাদ হোসেন বিপ্লব।
এ ছাড়া তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লা হিল গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির এবং শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক রয়েছেন।
মামলার পেছনের ঘটনা
এর আগে ১৮ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ২ এই মামলায় ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। এর আগে ৩০ জুলাই প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার এলাকায় আন্দোলনকারী রায়হান আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টের কাছে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সময়ে শাহ মখদুম কলেজের সামনে আনজুম সাকিব নিহত হন বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ। এ ঘটনায় সালমান ওরফে শিমুলসহ আরও কয়েকজন আহত হন বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ার, শাহ মখদুম কলেজ, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড়সহ আশপাশের এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। প্রসিকিউশনের দাবি, এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

