কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের আইনজীবী সহকারী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি হয়েছেন কারাগারে থাকা আব্দুল বাতেন মহুরি।
তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি। পাশাপাশি তিনি আইনজীবী সহকারী হিসেবে কাজ করেন।
বৃহস্পতিবার সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রাতে ভোটের ফল ঘোষণা করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম ফল ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচনের আগে গ্রেপ্তার
আব্দুল বাতেন কুড়িগ্রাম জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকনের আইনজীবী সহকারী ছিলেন।
নির্বাচনের দুই দিন আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাতেনের কয়েকজন সমর্থক মহুরি অভিযোগ করেন, তাকে নির্বাচনে হারানোর জন্যই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে পুলিশের বক্তব্য, রাজনৈতিক কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
৩৬২ ভোট পেয়ে জয়
সভাপতি পদে আব্দুল বাতেন ৩৬২ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফারুক আহমেদ পেয়েছেন ১৪০ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদেও বাতেন সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী জয় পেয়েছেন। আতিয়ার রহমান ১৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুর রহমান পেয়েছেন ১০১ ভোট। সমিতিতে মোট ভোটার ছিলেন ৩৬২ জন। এর মধ্যে ৩৫৮ জন ভোট দিয়েছেন।
১৪ সদস্যের প্যানেলে বাতেন সমর্থিত আটজন প্রার্থী জয় পেয়েছেন। তাদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদও রয়েছে।
যা বললেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের এক দিন আগে একজন প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করায় তিনি মর্মাহত হয়েছেন। আব্দুল বাতেনকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও জানান।
তবে তার ধারণা, গ্রেপ্তারের ঘটনা বাতেনকে সহানুভূতির ভোট পেতে সহায়তা করেছে। এ কারণে তার প্যানেলের বেশির ভাগ প্রার্থী জয় পেয়েছেন বলেও মনে করেন তিনি।

