বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য নতুন একটি সমন্বিত আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাহিনীটি যে তিনটি পৃথক আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলো এক করে ‘আনসার বাহিনী আইন’ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাহিনীর অডিটোরিয়ামে ‘অগ্রযাত্রা ভবন’সহ কয়েকটি আধুনিক সেবা ও ভ্রাম্যমাণ আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বর্তমানে আনসার বাহিনী ‘আনসার বাহিনী আইন, ১৯৯৫’, ‘আনসার ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৩’ এবং ‘গ্রাম প্রতিরক্ষা দল আইন, ১৯৯৫’ অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনটি আইনের বদলে একটি আইন করা হলে বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার আইনি ভিত্তি আরও শক্ত হবে। একই সঙ্গে বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনাও আরও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হবে।
বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ৩ দশমিক ৪২৮ একর পরিত্যক্ত জমিতে নতুন সদর দপ্তর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনানুগভাবে জমি হস্তান্তরের পর সেখানে আধুনিক সদর দপ্তর নির্মাণ করা হবে।
নতুন সদর দপ্তরে বহুতল ভবনের পাশাপাশি একটি কমান্ড সেন্টার থাকবে। এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে দ্রুত তথ্য আদান প্রদান, কেন্দ্রীয়ভাবে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হবে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার সদস্যদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন, ধর্মীয় উৎসব ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া দুর্গম পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও চোরাচালান ঠেকানো এবং অপরাধ দমনে তারা কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
দেশের অদক্ষ জনশক্তিকে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করার ওপরও গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ১ লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবককে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ‘সঞ্জীবন’, ‘প্রান্তিক সংযোগ’ ও ‘প্রান্তিক শক্তি’সহ বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার লক্ষ্য রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ সভাপতিত্ব করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আনসার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

