১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় সাময়িকভাবে মনোনীত ২০০ প্রার্থীর ডোপ টেস্ট ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী সোমবার, ১২ অক্টোবর সবার ডোপ টেস্ট হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে ১৭ অক্টোবর, শনিবার, মেধাক্রম অনুযায়ী তিনটি হাসপাতালে।
আজ শনিবার, ১০ অক্টোবর কমিশনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তসলিম আরিফের স্বাক্ষরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর ঢাকার শেরেবাংলা নগরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারে সব প্রার্থীর ডোপ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে।
১৭ অক্টোবরের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেধাক্রমের ১ থেকে ৭০তম প্রার্থীরা পরীক্ষা দেবেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাবেন ৭১ থেকে ১৪০তম এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে ১৪১ থেকে ২০০তম মেধাক্রমের প্রার্থীরা।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা ২০২৫-এর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তাতে প্রবেশ পদে, অর্থাৎ সিভিল জজ পদে ২০০ জনকে সাময়িকভাবে মনোনীত করা হয়।
ফলাফলের সঙ্গে কিছু শর্তও জানানো হয়েছে। কোনো প্রার্থী অসত্য তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে, যোগ্যতার ঘাটতি থাকলে কিংবা আবেদনপত্রে অসংগতি পাওয়া গেলে তাঁর মনোনয়ন বাতিল হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অযোগ্য ঘোষিত হলে অথবা পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে বিরূপ তথ্য এলেও মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য হবে।
কমিশন আরও জানিয়েছে, সাময়িক মনোনয়ন কোনো প্রার্থীর নিয়োগ পাওয়ার অধিকার তৈরি করে না। প্রকাশিত ফলাফলে ত্রুটি পাওয়া গেলে বা যুক্তিসংগত কারণে প্রয়োজন হলে ফলাফল পরিবর্তন, সংশোধন বা পুনর্নির্ধারণের ক্ষমতা কমিশন নিজের হাতে রেখেছে।
এই সময়সূচি নিয়োগ প্রক্রিয়ার শেষ দিকের ধাপের ইঙ্গিত দেয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা পেরিয়ে প্রার্থীরা এখন যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে আছেন। বিচারকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদে নিয়োগের আগে ডোপ টেস্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক ধাপ। এতে প্রার্থীর শারীরিক সক্ষমতা, মাদকমুক্ত থাকা এবং ব্যক্তিগত সততা যাচাই করা হয়।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু বিষয় স্পষ্ট নয়। ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা আলাদা করে বলা হয়নি। পুলিশ ভেরিফিকেশন কবে শেষ হবে এবং চূড়ান্ত নিয়োগ কবে নাগাদ হতে পারে, সে বিষয়েও তথ্য নেই। প্রার্থীদের জন্য এ অনিশ্চয়তা স্বাভাবিক, কারণ এই ধাপগুলোর যেকোনো একটিতে সমস্যা হলে মনোনয়ন বাতিল হতে পারে।
সব মিলিয়ে ২০০ প্রার্থীর নিয়োগের পথে এখন তিনটি বাধা বাকি আছে। ডোপ টেস্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন। এগুলো সফলভাবে পেরোলেই তাঁরা সিভিল জজ হিসেবে নিয়োগের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবেন। আপাতত নজর থাকবে ১২ ও ১৭ অক্টোবরের পরীক্ষার ফল এবং কমিশনের পরবর্তী ঘোষণার দিকে।

