দেশে গরুর মাংসের দাম কমিয়ে প্রতি কেজি ২৫০ টাকার মধ্যে আনার দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য জীবিত গরু এবং প্যাকেটজাত হালাল মাংস আমদানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।
কেজি ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এত বেশি দামের কারণে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত এবং নির্দিষ্ট আয়ের অনেক পরিবার গরুর মাংস কেনা কমিয়ে দিয়েছে বা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
এর ফলে বিশেষ করে শিশুদের পুষ্টি ও প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলিম এবং গরুর মাংস তাঁদের অন্যতম পছন্দের খাদ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আমদানির পক্ষে তুলনামূলক সুবিধার যুক্তি
গরুর মাংসের দাম কমাতে আমদানির সুযোগ দেওয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের তুলনামূলক সুবিধা তত্ত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে নোটিশে।
এতে বলা হয়েছে, যে পণ্য কোনো দেশ তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদন করতে পারে, সেই পণ্যে বেশি গুরুত্ব দেওয়া অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর। আর কোনো পণ্য দেশে উৎপাদনে খরচ বেশি হলে তা অন্য দেশ থেকে আমদানি করা যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের দেশে বেশি খরচে পোশাক উৎপাদনের পরিবর্তে বাংলাদেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে পোশাক আমদানি করে।
একইভাবে কম দামে গরুর মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে আমদানির সুযোগ তৈরি করা উচিত বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
সংবিধানের তিন অনুচ্ছেদের উল্লেখ
নোটিশে খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের কথা তুলে ধরে বলা হয়েছে, খাদ্যের মতো মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একইভাবে ১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণের পুষ্টির স্তর ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে থাকা জীবনের অধিকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে নোটিশে বলা হয়েছে, এই অধিকার শুধু বেঁচে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মর্যাদাপূর্ণ ও পুষ্টিকর খাবারের সুযোগও এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে, সাশ্রয়ী দামে গরুর মাংস পাওয়ার সুযোগ সীমিত রেখে একটি ছোট গোষ্ঠীকে অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ দেওয়া হলে তা সংবিধানের এসব নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
১৫ দিনের সময়
নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সার্টিফায়েড হালাল হিমায়িত বা প্যাকেটজাত মাংস আমদানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে আমদানি শুল্ক যৌক্তিক পর্যায়ে এনে গরুর মাংসের খুচরা দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
তবে আইনি নোটিশে করা এসব দাবি এখনো সরকারের সিদ্ধান্ত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপরই পরবর্তী বিষয়টি নির্ভর করবে।

