ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৬: সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬ নিয়ে একটি বিষয় সরকার স্পষ্ট করেছে। নতুন এই আইনে হেবা বা দানের আগের কোনো নিয়ম বদলানো হয়নি। বরং হস্তান্তরের একটি আলাদা পথ যোগ করা হয়েছে, যেখানে সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পরও দাতা নিজের জীবদ্দশায় তা ভোগ করতে পারবেন। গত রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা থেকে পাঠানো এক পত্রে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসকে বিষয়টি জানানো হয়।
পত্রে বলা হয়েছে, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর ১২২ ধারার পরে নতুন দুটি ধারা বসানো হয়েছে। ধারা দুটির নম্বর ১২২এ ও ১২২বি। এই দুই ধারায় নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের মানুষের মধ্যে দান বা হস্তান্তরের পরও দাতার ভোগদখলের অধিকার সুরক্ষিত রাখার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ছেলেমেয়ে বা স্বামী ও স্ত্রীর নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও দাতাকে ঘর ছাড়তে বা জমির আয় থেকে বঞ্চিত হতে হবে না।
আইনের মূল প্রশ্নটা এখানেই। ১৮৮২ সালের আইনে দান মানে মালিকানা পুরোপুরি অন্যের হাতে চলে যাওয়া। একবার দান সম্পূর্ণ হলে দাতার আর কোনো স্বত্ব থাকে না। এ কারণে অনেক বাবা ও মা সন্তানের নামে জমি বা বাড়ি লিখে দেওয়ার পর বৃদ্ধ বয়সে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। আদালতে এ ধরনের বিরোধ নতুন নয়। নতুন ধারায় সেই ফাঁক কিছুটা পূরণের চেষ্টা করা হয়েছে।
মুসলিম আইনে হেবার নিজস্ব শর্ত আছে। দাতাকে দানের ঘোষণা দিতে হয়, গ্রহীতাকে তা গ্রহণ করতে হয় এবং সম্পত্তির দখল বুঝিয়ে দিতে হয়। বাংলাদেশে মুসলমানদের দান ও হেবার ক্ষেত্রে এই নিয়মই চলে আসছে। সরকারের বক্তব্য হলো, নতুন ধারা এই নিয়মের জায়গা নেয়নি। যিনি চান, তিনি আগের মতোই হেবা বা সাধারণ দানের পথে যেতে পারবেন। আর যিনি জীবদ্দশায় ভোগের অধিকার রেখে দিতে চান, তাঁর জন্য নতুন পথ খোলা থাকল।
বিলটি গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয়। পাসের সময় বিষয়টি নিয়ে মতভেদ দেখা গেছে। বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য বিলটিকে কোরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী বলে আপত্তি তোলেন এবং ভোটের সময় সংসদ কক্ষ ছেড়ে যান। আইনমন্ত্রী পাল্টা বলেছেন, সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই এটি আনা হয়েছে এবং হেবা বা অন্য কোনো স্বীকৃত হস্তান্তর পদ্ধতির বৈধতায় এর কোনো প্রভাব পড়বে না। এই বিতর্কের কারণে ভবিষ্যতে আদালতে ধারাগুলোর ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে আইন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন।
সাধারণ মানুষের জন্য কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা জরুরি। জমি বা বাড়ি হস্তান্তরের দলিল যথারীতি রেজিস্ট্রি করতে হবে। দলিলে ভোগের অধিকার রাখার শর্তটি পরিষ্কার ভাষায় লিখে রাখা ভালো, যাতে পরে কোনো বিরোধ না হয়। কোন কোন আত্মীয় এই সুবিধার আওতায় পড়বেন এবং কীভাবে তা কার্যকর হবে, তা আইনের চূড়ান্ত পাঠ দেখে জানা দরকার। দলিল করার আগে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

