রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব এ এন এম আয়াসসহ চারজনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আয়াস ও মো. সাকিবুল হাসানকে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্য দুই আসামি মো. সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমিকে দুই দিন করে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০(খ), ১৫৩(ক) ও ২৯৫(ক) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ তদন্তের স্বার্থে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং বিশৃঙ্খলা তৈরিতে উসকানির অভিযোগ রয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।
কোন ধারায় কী অভিযোগ
আইন বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দণ্ডবিধির ১২০(খ) ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের বিষয়টি রয়েছে। কোনো অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে এ ধারায় মামলা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট অপরাধের ধরন অনুযায়ী সাজা নির্ধারিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
দণ্ডবিধির ১৫৩(ক) ধারায় বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে শত্রুতা বা ঘৃণা ছড়ানোর বিষয়টি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কথা, লেখা, চিহ্ন বা দৃশ্যমান উপস্থাপনার মাধ্যমে এ ধরনের বিদ্বেষ ছড়ানো বা ছড়ানোর চেষ্টা এ ধারার আওতায় পড়তে পারে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
অন্যদিকে ২৯৫(ক) ধারায় কোনো শ্রেণির মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষপূর্ণভাবে আঘাত করার বিষয়টি রয়েছে। কথা, লেখা বা দৃশ্যমান উপস্থাপনার মাধ্যমে ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করা কিংবা এমন চেষ্টা এ ধারার আওতায় পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
তবে এসব ধারায় মামলা বা গ্রেপ্তার হওয়া মানেই আসামিরা অপরাধী প্রমাণিত হয়েছেন, এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হলে আদালত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেবেন।
যেভাবে শুরু হয় ঘটনা
৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এরপর ফুটপাতের পাশের দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়।
১০ অক্টোবর এসব গ্রাফিতির একটি মুছে ফেলার চেষ্টা করার ঘটনায় আলোচনায় আসেন আয়াস।
এরপর আয়াস, মো. সাকিবুল হাসান, মো. সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমিকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। তাদের বয়স যথাক্রমে ২৯, ১৯, ১৮ ও ২৭ বছর।
আদালতে দুই পক্ষের বক্তব্য
আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসাইন আদালতে রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, আসামিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার ভিত্তিতে রিমান্ডে নেওয়ার মতো উপাদান নেই।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, আসামিদের কর্মকাণ্ডের পেছনে একটি চক্র রয়েছে এবং তাদের কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আয়াস ও সাকিবুলের তিন দিন এবং সুজন ও মারজিয়ার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

