রাজধানীর পল্লবী ও বনানীর ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংসতায় উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে করা মামলায় তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন লেফটেন্যান্ট অবসরপ্রাপ্ত কাজী গুলশান আরা ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত দেবাশীষ।
সোমবার ১২ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আদালতে রিমান্ডের আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালতে এ আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলাটি পল্লবী থানায় করা হয়েছে। ১২ অক্টোবর করা এ মামলায় দণ্ডবিধি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কী করতেন, তদন্তে যা বলছে পুলিশ
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ বলেছে, পল্লবী থানার একটি বাসায় অবস্থান করে দুই আসামি কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করতেন।
এর মধ্যে ‘Bangladesh Awami League Supporters Alpha 1’ এবং ‘BBM Transparency’ নামের দুটি গ্রুপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব গ্রুপে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংসতায় উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়ানো হতো বলে তদন্ত কর্মকর্তার দাবি।
পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও তাঁরা বিভিন্ন কার্যক্রম চালাতেন।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্য পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হতো।
এসব যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চলছিল বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘কালআজকাল.কম’ নামে একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল বলেও পুলিশের দাবি।
২০১৮ সালের সংগঠনের প্রসঙ্গ
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ আরও বলেছে, ২০১৮ সালে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে দুই আসামি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন।
ওই সময় তাঁরা ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন গঠন করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সংগঠনটির ১০১ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হয় বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তে তাঁদের সঙ্গে দেশি ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
তবে রিমান্ড আবেদনে থাকা এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
যে কারণে সাত দিনের রিমান্ড
মামলার অন্য আসামি ও সহযোগীদের পরিচয় এবং অবস্থান জানতে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় ডিবি।
এ ছাড়া কথিত রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দেশি ও বিদেশি কারা জড়িত, তা বের করার কথা বলা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানতে চায়, এসব কর্মকাণ্ডে কোনো ডিজিটাল আলামত ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং কথিত অবৈধ অর্থায়নের উৎস কোথায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের পরিচালিত আরও কোনো ওয়েবসাইট বা পেজ আছে কি না, সেটিও খুঁজে দেখতে চায় তদন্ত সংস্থা।
সবশেষে মামলার মূল ঘটনা সম্পর্কে তথ্য বের করা এবং কথিত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে রোববার ১১ অক্টোবর রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী থানার ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাজী গুলশান আরা ও দেবাশীষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

