জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করতে গ্রামীণ কল্যাণ কোনো চেষ্টাই বাদ রাখেনি বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ডকে কর ফাঁকির ‘ধ্রুপদি উদাহরণ’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন আদালত।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর নিয়ে করা দুটি রিটের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব পর্যবেক্ষণ এসেছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।
রায়ে আদালত বলেন, গ্রামীণ কল্যাণের কর ফাঁকির চেষ্টার বিষয়টি এ মামলায় স্পষ্ট। নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া একটি বিষয়কে দীর্ঘদিন ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কর পরিশোধ এড়ানোর চেষ্টা করেছে।
হাইকোর্ট আরও বলেন, বিষয়টি অন্যভাবেও দেখা যেত। কিন্তু গ্রামীণ কল্যাণ দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে। এর ফলে এনবিআর তার প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
মামলার নথি পর্যালোচনা করে আদালত বলেন, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের ওপর ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর আরোপ করা হয়। এই করের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রতিষ্ঠানটি দুটি রিট করে।
তবে একই প্রতিষ্ঠান পরবর্তী ২০১৭-২০১৯ করবর্ষে একই ধরনের আয়কর পরিশোধ করে। পরে ওই করের বৈধতাও আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়। এ বিষয়ে ২০১৯ সালের ৩৬৩ নম্বর ইনকাম ট্যাক্স রেফারেন্স করা হলেও পরে সেটি প্রত্যাহার করে নেয় গ্রামীণ কল্যাণ।
এই বিষয়টি উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেন, গ্রামীণ কল্যাণ নিজের অবস্থানের বিপরীত অবস্থান নিয়ে একই বিষয় বারবার সামনে এনেছে। আদালতের আগের আদেশের প্রতি প্রতিষ্ঠানটির এমন আচরণকে ‘চরম ঔদ্ধত্য’ বলেও মন্তব্য করেন আদালত।
হাইকোর্টের ভাষ্য, এ ধরনের আচরণ প্রকারান্তরে আদালতের আদেশকে উপেক্ষা করার শামিল।
গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা দুটি রিটে জারি করা রুল গত ১০ সেপ্টেম্বর খারিজ করে দেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি সোমবার প্রকাশ করা হয়।
রায়ে এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আইন অনুযায়ী দ্রুত গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় প্রকাশের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর তারা এর বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

