দেশের কারাগারে বন্দী মায়েদের সঙ্গে তিনশোর বেশি শিশু থাকছে। হাইকোর্টে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। তবে কারা কর্তৃপক্ষের হিসাব আলাদা। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর পর্যন্ত ৩৪৮টি শিশু মায়ের সঙ্গে কারাগারে ছিল। দুই সরকারি সংস্থার সংখ্যায় এই অমিল এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
কারা অধিদপ্তরের হিসাবে এই ৩৪৮ শিশুর মধ্যে ছেলে ১৭৯ জন এবং মেয়ে ১৬৯ জন। বিভাগ ধরে দেখলে সবচেয়ে বেশি শিশু আছে ঢাকায়, ১২২ জন। এরপর চট্টগ্রামে আছে ১১৪ জন। রাজশাহীতে ৩৭, সিলেটে ২১, খুলনায় ১৭ এবং ময়মনসিংহে ১৪ জন শিশু মায়ের সঙ্গে থাকছে। রংপুরে এ সংখ্যা ১৩ আর বরিশালে ১০।
দেশের ৭৫টি কারাগারে ১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৩০০ নারী বন্দী ছিলেন। এদের মধ্যে বিচারাধীন ২ হাজার ৪৮৯ জন। সাজাপ্রাপ্ত বন্দী ৮১১ জন। অর্থাৎ বন্দী নারীদের বড় একটি অংশের বিচার এখনো শেষ হয়নি। তাদের সঙ্গে থাকা শিশুরাও তাই কারাগারের ভেতরেই বড় হচ্ছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই শিশুদের খেলনা, পোশাক ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। প্রবেশন ও আফটার কেয়ার সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় সোসাইটি ফর কারেকশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন অব অফেন্ডার্স নামের একটি নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এ কাজ করে। সংস্থাটির ৭২টি ইউনিট আছে। ৬৪টি জেলায় এবং আটটি মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের কার্যালয় রয়েছে। জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের অর্থ ও জনগণের অনুদানে কর্মসূচি চলে।
কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির নিউ এজকে বলেছেন, কারাগারে শিশুদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার আছে। দিনের বেলা শিশুরা সেখানে কর্মীদের তত্ত্বাবধানে থাকে। রাতে তারা মায়ের কাছে ফিরে আসে। পোশাক, খেলনা ও অন্যান্য দরকারি জিনিসও দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।
তবে কারা অধিদপ্তর নিজেই স্বীকার করেছে, শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য কারাগার উপযুক্ত জায়গা নয়। তাই শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে অধিদপ্তর মত দিয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর এই প্রতিবেদন দিয়েছে হাইকোর্টের একটি রুলের জবাবে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ জনস্বার্থে একটি রিট করেছিলেন। সেই রিটের শুনানি নিয়ে ১৫ জুন রুল জারি করেন আদালত। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও বিকাশে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে সরকারকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না।
কামরুন নাহার সোমবার জানিয়েছেন, তিনি প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনবেন। দীর্ঘ ছুটির পর ২৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট খুললে দ্রুত শুনানির আবেদনও করবেন তিনি।
একটি বিষয় যাচাই করে নেবেন। মূল প্রতিবেদনে লেখা আছে, শিশুরা “ছয় বছরের বেশি” বয়সী। সাধারণত কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকার বয়সসীমা ছয় বছর বা তার কম হয়, তাই এখানে “ছয় বছরের কম” হওয়ার সম্ভাবনা আছে। প্রকাশের আগে মূল সূত্র বা কারা অধিদপ্তরের তথ্য মিলিয়ে নিলে ভালো হবে। চাইলে আমি এতে কারা বিধি ও শিশু আইনের আইনি দিক যোগ করে দিতে পারি।

