রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার কিশোর আজান আলী শরীফের জামিন আবেদন আবারও নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৮ এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতে কিশোরের পক্ষে অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন জামিনের আবেদন করেন। তিনি আদালতকে জানান, আসামি একজন শিশু এবং বাদীপক্ষের সঙ্গে তাঁদের আপস হয়েছে। এ সময় মামলার বাদীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন মামলার জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর আদালত আজান আলীর জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ২৭ সেপ্টেম্বর আবার জামিন শুনানি হয়। ওই দিন অধিকতর শুনানির জন্য ৪ অক্টোবর তারিখ রাখা হয়। ৪ অক্টোবরও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।
তদন্তে যা বলছে পুলিশ
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. আরিফীন ইসলাম এর আগে আজান আলীকে আদালতে হাজির করে তাঁকে আটক রাখার আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পর প্রাইভেট কারটির ডান পাশের চালকের আসনের দরজা খুলে কিশোর আজান আলী শরীফ বের হয়ে আসেন।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। মামলার তদন্ত এখনো চলছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছিল।
আপসের কথা জানিয়ে ক্ষতিপূরণ
আজান আলীর জামিন আবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় তিনি গাড়ির চালকের পাশের আসনে বসা ছিলেন। নিহত মেহেদী শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী ছিলেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটে। পরে স্থানীয়ভাবে আপস মীমাংসার মাধ্যমে কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ৯ লাখ টাকা নগদ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
যেভাবে মৃত্যু হয় মেহেদীর
মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম গত ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় মামলা করেন। সড়ক পরিবহন আইনে করা মামলায় গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারক নামের ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আকাশ বেপরোয়া গতিতে প্রাইভেট কার চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

