নরসিংদীর রায়পুরায় বাড়িতে ঢুকে কৃষক মোমেন মিয়া হত্যার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মামলার আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যেই ঘোরাফেরা করছেন। এমনকি তাঁদের অস্ত্র হাতে মহড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার নরসিংদী শহরের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন নিহত মোমেন মিয়ার ছোট ভাই আমিন মিয়া। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে অস্ত্র হাতে একদল লোককে সাদাগরকান্দি এলাকায় মহড়া দিতে দেখা যায়। প্রায় সাত মিনিটের একটি ভিডিও দ্য ডেইলি স্টারের নজরেও এসেছে। তবে ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাড়িতে ঢুকে গুলি, নিহত কৃষক
গত ২ আগস্ট সকালে রায়পুরার চাঁনপুর ইউনিয়নে মোমেন মিয়ার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধের জেরে এ হামলা হয়।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ওই সকালে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল মোমেন মিয়ার বাড়িতে ঢুকে গুলি চালায়। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
গুলিতে মোমেন মিয়াসহ ছয়জন আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মোমেন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জান্নাতুল নাঈম তখন জানিয়েছিলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মোমেনের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর মাথা ও পায়ে গুলির আঘাত ছিল।
স্থানীয় বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড
স্থানীয়দের ভাষ্য, চাঁনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোমেন সরকার এবং সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেমের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। মোমেন মিয়া চেয়ারম্যান মোমেন সরকারের চাচাতো ভাই।
হামলার ঘটনায় আবুল কাশেম ও ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ইউপি চেয়ারম্যান মোমেন সরকারের দাবি, ফরিদ উদ্দিনকে ছয় মাসের জন্য সাদাগরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে দাবি তাঁর।
তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফরিদ উদ্দিন। ঘটনার পর যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তিনি তখন নোয়াখালীতে নিজের কর্মস্থলে ছিলেন এবং গ্রামের হত্যাকাণ্ডে তাঁর জড়িত থাকার সুযোগ নেই।
মামলা প্রত্যাহারে চাপের অভিযোগ
হত্যাকাণ্ডের পর মোমেন মিয়ার ভাই আমিন মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, মামলা করার পর আসামিদের ভয়ে তাঁরা বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না। মামলা তুলে নিতে তাঁদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
আমিন মিয়া বলেন, নিরাপত্তার কারণে পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অন্যত্র অবস্থান করছেন। তাঁর অভিযোগ, আসামিরা অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, আবুল কাশেম এখনও এলাকায় অবস্থান করছেন।
পুলিশ বলছে অভিযান চলছে
আসামিদের প্রকাশ্যে ঘোরাফেরার অভিযোগের বিষয়ে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দুই দফা অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে কিছু অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ওসি বলেন, এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় অভিযানের সময় আসামিরা নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অস্ত্র হাতে মহড়ার ভিডিও সম্পর্কেও পুলিশ অবগত বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং আরও কিছু ভিডিও পুলিশের কাছেও এসেছে।
আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি।

