ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) শিউলি খানম পদত্যাগ করেছেন। শনিবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রটি প্রথমে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা পড়ে, পরে সেটি সলিসিটরের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁর এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের একাধিক আইন কর্মকর্তার পদত্যাগের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
গত কয়েক মাসে এই কার্যালয়ে পদত্যাগের ধারা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে। শিউলি খানমের আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বেলায়েত হোসেন। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর পদ ছাড়েন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাদিয়া আফরিন শাপলা।
সবচেয়ে বড় একটি ঘটনা ঘটে গত ৭ সেপ্টেম্বর। ওই দিন একযোগে পদত্যাগ করেন পাঁচ আইন কর্মকর্তা। তাঁরা হলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবি ও মামুন চৌধুরী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জ্বল চাকমা।
এর বাইরে সম্প্রতি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নূরুল করিমও পদত্যাগ করেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর তিনি আইনমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
আরও আগে, গত জুন মাসে সরকারের একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জামায়াত-সমর্থিত সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল একসঙ্গে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। সরকারের গৃহীত ওই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে শিউলি খানম ও বেলায়েত হোসেন, দুজনই ব্যক্তিগত কারণের কথা বলেছেন। তবে একই কার্যালয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে এতজন কর্মকর্তার সরে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, এর পেছনে কেবল ব্যক্তিগত কারণ আছে, নাকি প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও কাজ করছে। এ বিষয়ে সরকার বা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের কোনো মন্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে পদত্যাগের প্রকৃত কারণ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
রাষ্ট্রের আইনি প্রতিনিধিত্বে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পক্ষে উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনা এবং আইনি পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব এই কার্যালয়ের। তাই একের পর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সরে গেলে মামলা পরিচালনার ধারাবাহিকতা ও কার্যালয়ের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের মতো পদে শূন্যতা তৈরি হলে নতুন নিয়োগ কত দ্রুত হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
শিউলি খানমের শূন্য পদে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে বা পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে কি না, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য জানা যায়নি।

