শুধু বিচারকের সংখ্যা বা বেঞ্চ বাড়িয়ে উচ্চ আদালতের মামলাজট কমানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাঁর মতে, বেঞ্চ বাড়ানোর পাশাপাশি যোগ্য, দক্ষ, সৎ ও কর্মনিষ্ঠ বিচারক নিয়োগও জরুরি। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ ছুটি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ পুনর্গঠন, বিচারক নিয়োগ, দীর্ঘ ছুটি, সাংবাদিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ এবং আলোচিত কয়েকটি হত্যা মামলার শুনানি নিয়ে কথা বলেন তিনি।
মামলাজট কমাতে শুধু আদালতে কতটি বেঞ্চ আছে, সেটি দেখলে হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। কোন বেঞ্চে কত মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। একই ধরনের এখতিয়ার থাকা সত্ত্বেও একেকটি বেঞ্চের মামলা নিষ্পত্তির সক্ষমতায় পার্থক্য থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
একটি বিশেষ বেঞ্চের উদাহরণ দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পারিবারিক বিরোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার জন্য গঠিত ওই বেঞ্চ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কার্যদিবসে মাদারীপুরের আছিয়া ও ফেনীর নুসরাতের মতো আলোচিত প্রায় ২৪টি মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের মামলা নিষ্পত্তি করেছে। একই ধরনের এখতিয়ার থাকা অন্য বেঞ্চগুলোতে সমপরিমাণ মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে কি না, তা পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ, সন্তানের হেফাজতসহ বিভিন্ন মামলা বছরের পর বছর চলতে থাকে। তাঁর মতে, এসব মামলার কারণে সাধারণ মানুষ, নিরপরাধ ব্যক্তি ও প্রকৃত বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দীর্ঘ ছুটি শেষে হাইকোর্ট বিভাগের ৫৭টি বেঞ্চের কর্মক্ষেত্র পুনর্গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মামলাজট কমিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
দীর্ঘ ছুটির কারণে বিচারিক কার্যক্রমে যে বিরতি তৈরি হয়, তা কমানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। তবে ছুটি কমানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিচারপতিদের মতামত ও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন।
মাদ্রাসার ঘটনায় আইনি প্রতিকারের আহ্বান
মাদ্রাসার এক শিক্ষককে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কারও নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া উচিত নয়। কোনো শিক্ষক অপরাধ করলে আইনের মাধ্যমে তাঁর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আবার কেউ অন্যায়ের শিকার হলে তাঁকে নিরপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
তিনি বলেন, শিশু-কিশোরেরা যেন কোনো পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছে নিজেদের অনিরাপদ মনে না করে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। পিতা-মাতার মতো শিক্ষকেরাও শিশুদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই এক বা দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে পুরো শিক্ষকসমাজকে লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রবেশের বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা
সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশে প্রায় ১০ মাস ধরে চলা বিধিনিষেধের বিষয়টি আদালত প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি বলেন, তিনি ও দুই অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল সম্প্রতি বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের সংখ্যা নির্ধারণ করে প্রবেশের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে একটি বিকল্প প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

