ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নির্ধারিত সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. শাহজাহান কবির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইসলামী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. আবদুস সামাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মামলাটির কার্যক্রম শুরু হয়। অভিযোগের বিষয়ে আবেদনকারীর বক্তব্য রেকর্ড করার পর আদালত দুদককে তদন্তের নির্দেশ দেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড ইসলামী ব্যাংকের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করে। ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৮১৬ শতাংশের সমপরিমাণ এসব শেয়ার কিনতে ব্যয় করা হয় ২৫১ কোটি টাকা।
অভিযোগকারীর দাবি, কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা হলেও পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা। এত কম পরিশোধিত মূলধন নিয়ে এত বিপুল অঙ্কের শেয়ার কেনার আর্থিক সক্ষমতা কোম্পানিটির ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রতারণা, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পারস্পরিক যোগসাজশে শেয়ার অধিগ্রহণের ব্যবস্থা করেন। এ প্রক্রিয়ায় কোম্পানিটির প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে শেয়ার কেনার পরিমাণের অসংগতি ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, একই দিনে ধারাবাহিকভাবে শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠানসহ ২৪টি শেয়ারধারী কোম্পানি ইসলামী ব্যাংকের মোট শেয়ারের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ অধিগ্রহণ করে।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ ও চেয়ারম্যান মিরফাত আরা বেগম।
এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন পরিচালকও এ মামলার আসামি।
তবে শেয়ার অধিগ্রহণসংক্রান্ত অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। দুদকের তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।

