মামলার চাপ বেশি এমন ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বড় নগরগুলোতে দক্ষ ও দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেন এমন বিচারকদের পদায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, কোনো বিচারক যদি দায়িত্ব পালনে ‘আয়েশি’ হন, তাহলে তাঁকে এমন জায়গায় পাঠানো হবে, যেখানে ‘আয়েশ করে চাকরি’ করা যাবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার সিএমএম আদালতের সম্মেলন কক্ষে ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় নগরগুলোতে মামলার চাপ অনেক বেশি। এসব জায়গায় যারা দক্ষতা দেখাতে পারবেন এবং দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন, তাঁদের বাছাই করে পদায়ন করতে চায় সরকার।
তিনি বলেন, কোনো কোনো বিচারক সকাল ১১টায় আদালতে আসছেন, আবার বেলা দেড়টায় চলে যাচ্ছেন। এ ধরনের ‘আয়েশি’ বিচারক থাকলে তাঁদের এমন জায়গায় দেওয়া হবে, যেখানে তাঁরা আয়েশ করে চাকরি করতে পারবেন।
বিচারব্যবস্থা ডিজিটাল করার উদ্যোগ
বিচারপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসার মাধ্যমে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ই-পারিবারিক আদালত চালুর উদ্যোগ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ই-বেইল বন্ড চালু করা হয়েছে। এতে জনগণ সুফল পাচ্ছেন।
ডিজিটাল সাক্ষ্য ও হাজিরার বিষয়েও আইন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে আনতে হয়। এ জন্য যানবাহন ও নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও কোনো কোনো আসামির ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের ব্যবস্থা আরও ব্যাপকভাবে চালু করা গেলে বিচারব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিচারব্যবস্থায় বড় চ্যালেঞ্জ এআই
ই জুডিশিয়ারি চালু করতে হলে বিচারপ্রক্রিয়ার সব ধাপ ডিজিটাল করতে হবে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। এআই ব্যবহার করে রায় লেখা বা সাক্ষ্য নেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এআই মানুষের কণ্ঠস্বরও এমনভাবে নকল করতে পারবে, যা ভবিষ্যতে বিচারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে বিচার বিভাগকে এআই মোকাবিলায় আরও দক্ষ হওয়ার আহ্বান জানান।
বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফেরানোর তাগিদ
বিচার বিভাগকে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় নিয়ে যেতে চান বলে জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, মানুষ যেন মনে না করে বিচারকেরা ন্যায়বিচার করছেন না বা তাঁরা বিচার পরিচালনায় দক্ষ নন। বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের যে অনাস্থা রয়েছে, তা দূর করতে হবে।
তিনি বিচারকদের আরও সময় ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। বিচারকেরা বাড়তি সময় ও নিষ্ঠা দিয়ে কাজ করলে আগামী এক বছরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আদালতে গেলে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়, মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে বিচার বিভাগকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
৩০ জেলায় প্রি কেইস মেডিয়েশন
লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে প্রি কেইস মেডিয়েশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
ইউএনডিপি, জাইকা ও আরও কয়েকটি সংগঠন এ কাজে সহযোগিতা করছে। ইতিমধ্যে ৩০টি জেলায় এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। সেখানে সাফল্যের হার ৬২ শতাংশের বেশি বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির, মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী, জেলা পিপি ইকবাল হোসেন এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূইয়াসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

